সুপ্রিম কোর্টের মামলার পর ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়ককে নোটিস, ৭ দিনের মধ্যে জবাব
সুপ্রিম কোর্টে মামলার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়ককে নোটিস বিধানসভার। দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ৭ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে মামলার পর ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়ককে নোটিস, ৭ দিনের মধ্যে জবাব চাইল বিধানসভা

কলকাতা, ন্যাশনাল ডেস্ক ১১ : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন এবার পৌঁছে গেল বিধানসভার আনুষ্ঠানিক দলত্যাগ-বিরোধী প্রক্রিয়ায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১০ জন বিধায়ককে নোটিস পাঠিয়েছে বিধানসভা সচিবালয়। দলীয় নির্দেশ অমান্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন বিধায়ক পদ খারিজ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের আগে তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের তরফে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তার পরেই বিধানসভা সচিবালয়ের নোটিস ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
দলত্যাগ-বিরোধী আইনে নোটিস
বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সংবিধানের দশম তফসিল, অর্থাৎ দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতাতেই এই নোটিস জারি করা হয়েছে। মূল অভিযোগ হল, সংশ্লিষ্ট বিধায়কেরা তাঁদের দলের নির্দেশ অমান্য করেছেন এবং দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছেন।
তবে নোটিস জারি হওয়া মানেই বিধায়ক পদ অবিলম্বে খারিজ হয়ে যাওয়া নয়। প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁদের লিখিত জবাবের পরই পরবর্তী আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগোবে।
৭ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব
বিধানসভা সচিবালয়ের নোটিসে সংশ্লিষ্ট ১০ বিধায়ককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁদের লিখিত জবাব জমা দিতে হবে।
তাঁরা দলীয় নির্দেশ অমান্য করেছেন কি না, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি কী এবং তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি আইনত কতটা প্রযোজ্য—এই সমস্ত বিষয় তাঁদের জবাবে উঠে আসতে পারে।
কারা রয়েছেন তালিকায়?
বিধানসভা সচিবালয়ের নোটিস পাওয়া ১০ বিধায়কের তালিকায় রয়েছেন—
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি এবং শিউলি সাহা।
এই বিধায়কেরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরেই নতুন মোড়
তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে বিরোধের জেরে বিষয়টি এর আগেই আদালতের দরজায় পৌঁছেছিল। মমতাপন্থী শিবিরের হয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান, সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সেই আবেদনের পরেই বিধানসভা সচিবালয়ের নোটিসকে এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বক্তব্য এবং গোটা বিষয়টির সাংবিধানিক ও বিধানসভাগত প্রক্রিয়া বিবেচনা করা হবে।
বিধায়ক পদ থাকবে কি না, নজর এখন পরবর্তী পদক্ষেপে
এখন মূল নজর ১০ বিধায়কের জবাবের দিকে। তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কী বক্তব্য পেশ করেন এবং সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে কোনও বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের বিষয়টি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোয়। ফলে নোটিস জারির পর এখনই সদস্যপদ খারিজ হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জায়গা নেই। বরং সাত দিনের জবাব এবং তার পরবর্তী প্রক্রিয়াই ঠিক করবে বিষয়টি কোন দিকে এগোয়।
রাজনৈতিক সংঘাত এবার সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি
তৃণমূলের অন্দরের এই বিরোধ ইতিমধ্যেই দলীয় নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্কের পাশাপাশি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এবার বিধানসভা সচিবালয়ের নোটিসে সেই সংঘাত নতুন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করল।
আগামী কয়েক দিন তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১০ বিধায়কের লিখিত জবাবের পর বিধানসভা কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, এবং আদালতে চলা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে কী অগ্রগতি হয়—তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
