বিজেপি নেতার সঙ্গে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ ঘিরে বিতর্ক, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়
বিজেপি নেতা পি এন পাঠকের সঙ্গে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া, সমালোচনা ও সমর্থনের ঝড়।
নিজস্ব প্রতিবেদন | CT News বাংলা
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপি নেতা পি এন পাঠকের সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সাক্ষাতের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
বুধবার পি এন পাঠক নিজের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে জানান, কলকাতায় প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়কের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের নেটিজেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তাঁকে ‘সুযোগসন্ধানী’ ও ‘স্বার্থপর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সৌরভ নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেননি। কেউ কেউ প্রাক্তন ভারতীয় পেসার আশোক ডিন্ডার উদাহরণ টেনে বলেন, ডিন্ডা ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু সৌরভ বরাবরই রাজনৈতিক অবস্থান এড়িয়ে চলেছেন।

অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকদের একাংশও এই সাক্ষাৎ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, দলের কঠিন সময়ে পাশে না থেকে নির্বাচনে জয়ের পর এই ধরনের সাক্ষাৎ গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে সৌরভকে বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত হবে না।
তবে এই ঘটনায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সমর্থনেও সরব হয়েছেন বহু মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, সৌরভ কখনও কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট ও ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করেছেন। তাই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, ভোটগ্রহণের দিন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে তা “মা দুর্গাও বলতে পারবেন না”। ফল প্রকাশের কয়েকদিন পর বিজেপি নেতা পি এন পাঠকের সঙ্গে তাঁর এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
