গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়বে, ডেনমার্কের সঙ্গে বড় নিরাপত্তা চুক্তি ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে ডেনমার্ক ও আমেরিকার বড় সমঝোতা। মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পথ খুলছে, তবে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বহাল থাকবে।
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় বড় চুক্তি! স্থায়ী মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পথ খুলছে

সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৪ : গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যেই বড় কূটনৈতিক সমঝোতার ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে এমন একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছেছে আমেরিকা, যার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ভূমিকা নিশ্চিত হবে।
তবে এই সমঝোতার অর্থ গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার অংশ হয়ে যাচ্ছে না। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, চুক্তিটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব, গ্রিনল্যান্ডের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
🔴 কী ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প?
১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প জানান, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত করার পথ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও শুরু করা হবে।
চুক্তির আওতায় আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত দেশগুলিকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি তৈরি, সামরিক উপস্থিতি স্থাপন বা নির্দিষ্ট ধরনের কৌশলগত বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।
🇺🇸 বাড়বে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি
গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান আর্কটিক অঞ্চলে অত্যন্ত কৌশলগত। ইতিমধ্যেই সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। নতুন সমঝোতার ফলে সেই উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অধীনে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলির সামরিক উপস্থিতি ঠেকানোর বিষয়টিও সমঝোতার অন্যতম লক্ষ্য।
🇨🇳🇷🇺 রাশিয়া-চীনকে ঘিরে কৌশলগত বার্তা
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে আমেরিকার অন্যতম উদ্বেগ রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য সামরিক বা কৌশলগত উপস্থিতি। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, মার্কিন অনুমোদন ছাড়া কোনও মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি, সামরিক উপস্থিতি বা সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না।
এর ফলে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব বিস্তার ঠেকানোর বিষয়টি এই সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ লিখিত পাঠ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, ফলে এর সব শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
🇩🇰 গ্রিনল্যান্ড কি আমেরিকার হাতে চলে যাচ্ছে?
না। এই চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যাচ্ছে না। গ্রিনল্যান্ড এখনও ডেনমার্কের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবেই থাকবে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও জানিয়েছেন, এই সমঝোতা গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।
🏛️ এখনই কার্যকর হচ্ছে না চুক্তি
চুক্তি নিয়ে ঘোষণা হয়ে গেলেও এটি এখনও সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এরপর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চুক্তি কার্যকর হবে।
🌐 আর্কটিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। এর আগে তিনি দ্বীপটির ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি করেছিল। এবার সরাসরি মালিকানা বা দখলের পরিবর্তে নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি সমঝোতার দিকে এগিয়েছে দুই পক্ষ।
নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য প্রভাব ঠেকানোও এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।
অর্থাৎ, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বদল না হলেও তার নিরাপত্তা কাঠামোয় আমেরিকার ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে চলেছে। এখন নজর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে প্রস্তাবিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর এবং পরবর্তী সংসদীয় অনুমোদন প্রক্রিয়ার দিকে।
