রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্কের পথ খুলল, ট্রাম্পের নতুন আইনে চাপে ভারত-চিন
রাশিয়া থেকে তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলির ওপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেলেন ট্রাম্প। নতুন আইনে চাপে ভারত ও চিন।
রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্কের পথ খুলল! ট্রাম্পের নতুন আইনে চাপে ভারত-চীন

সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ৫ : রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’-এ স্বাক্ষর করেছেন। নতুন এই আইনের মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে এসেছে। ভারতের পাশাপাশি রাশিয়ার অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা চিনও এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসে যাচ্ছে না। আইনটি ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই ধরনের শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা দিয়েছে। ফলে এখন ভারতের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হল, মার্কিন প্রশাসন এই ক্ষমতা ব্যবহার করবে কি না এবং করলে কী ধরনের শুল্ক বা ছাড় প্রযোজ্য হবে।
🔴 কেন এই আইন?
রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে আয় কমানো এবং মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই নতুন আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আইনটির আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, রুশ সরকারি আধিকারিক এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আইনটি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং রুশ তেল-গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির ওপরও চাপ তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশগুলির পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে।
🇮🇳 ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দামে অপরিশোধিত তেল পাওয়া ভারতের পরিশোধন ও জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নতুন মার্কিন আইন কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হলে ভারতের ক্ষেত্রে দুটি বড় বিষয় সামনে আসতে পারে—একদিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ, অন্যদিকে ভারতীয় পণ্যের মার্কিন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের সম্ভাবনা। ভারতীয় কর্মকর্তারাও আগেই সতর্ক করেছেন যে এই ধরনের ব্যবস্থা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
🇨🇳 চিনও নজরে
শুধু ভারত নয়, চিনও রাশিয়ার অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা। ফলে নতুন মার্কিন আইনের প্রভাব বেজিংয়ের ওপরও পড়তে পারে। পাঁচটি বড় রুশ জ্বালানি ক্রেতার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে রাশিয়া-ভারত ও রাশিয়া-চিনের জ্বালানি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
🇮🇳 ভারতের অবস্থান কী?
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির নীতি বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে ভারত।
অর্থাৎ, ভারত একদিকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির অর্থনৈতিক সুবিধা বিবেচনা করছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য মার্কিন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের ঝুঁকিও হিসেবের মধ্যে রাখছে।
🌍 বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাবের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—ভারত ও চিনের মতো বড় দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আবার ভারত-চিনের মতো বড় ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। ভারতীয় পক্ষও সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের কথা উল্লেখ করেছে।
⏳ এখন কী হবে?
ট্রাম্পের স্বাক্ষরের ফলে আইনটি কার্যকর হওয়ার আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কোনও স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। মার্কিন প্রশাসন ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করে, কোন দেশকে লক্ষ্য করে এবং কী ধরনের শর্ত আরোপ করে—তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
ফলে আপাতত ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল—রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি আমদানি, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মার্কিন বাজারে ভারতীয় রপ্তানি—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। নতুন মার্কিন আইনের পর দিল্লি-ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং রাশিয়া-ভারত জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর নজর এখন আরও বাড়ল।ন
