জিআই স্বীকৃতির পর কোচবিহারের শীতলপাটিকে বিশ্ববাজারে তুলতে রাজ্যের মহাপরিকল্পনা
জিআই স্বীকৃতির পর কোচবিহারের শীতলপাটিকে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় করতে চার ধাপের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। উপকৃত হবেন প্রায় ১৫ হাজার শিল্পী পরিবার।
জিআই স্বীকৃতির পর কোচবিহারের শীতলপাটিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে রাজ্যের মহাপরিকল্পনা, উপকৃত হবেন ১৫ হাজার শিল্পী পরিবার,নিজস্ব সংবাদদাতা | CT News বাংলা
কোচবিহার: ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) স্বীকৃতি পাওয়ার পর কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি শিল্পকে দেশ-বিদেশের বাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে চার ধাপের একটি বিশেষ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দীর্ঘদিন ধরে প্লাস্টিক ও মেশিনে তৈরি বিকল্প পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া এই ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং প্রায় ১৫ হাজার শিল্পী পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার ইকোপার্ক, দিল্লির দিল্লি হাট এবং মুম্বইয়ের বিভিন্ন জাতীয় মেলা ও প্রদর্শনীতে শীতলপাটির জন্য বিশেষ GI Pavilion তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের পর্যটক ও ক্রেতাদের কাছে কোচবিহারের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হবে।

নকল ও ভেজাল পণ্যের রমরমা বন্ধ করতে প্রতিটি আসল শীতলপাটির সঙ্গে GI লোগোযুক্ত ট্যাগ, হলোগ্রাম ও সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ক্রেতারা সহজেই আসল পণ্য শনাক্ত করতে পারবেন এবং শিল্পীরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।
ডিজিটাল বাজারে শীতলপাটির প্রসার ঘটাতে ONDC, Amazon Karigar এবং রাজ্য সরকারের ‘বাংলার হাট’ পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইন বিপণনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ শিল্পীদের ই-কমার্স, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং অনলাইন ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা সরাসরি ক্রেতাদের কাছে নিজেদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে শীতলপাটির পরিচিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে দুবাই, লন্ডন ও সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলির সহযোগিতায় ‘Made in Bengal’ ব্র্যান্ডের আওতায় এই ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যটনের সঙ্গে এই শিল্পকে যুক্ত করতে কোচবিহারের ঘুঘুমারি ও ধলুয়াবাড়ি-সহ শীতলপাটি উৎপাদনকারী এলাকাগুলিকে কেন্দ্র করে ‘শীতলপাটি গ্রাম’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে পর্যটকেরা সরাসরি কারিগরদের শীতলপাটি তৈরির প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন এবং তাঁদের কাছ থেকেই পণ্য কিনতে পারবেন।
শুধু ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটিতেই সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিক বাজারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে হ্যান্ডব্যাগ, পার্স, ক্লাচ, জুতো, মোবাইল কভার, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, হোম ডেকর ও ইন্টেরিয়র সজ্জার বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের আশা, এই বহুমুখী উদ্যোগের ফলে কোচবিহারের শীতলপাটি নতুন আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা খুলবে, শিল্পীদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নতুন করে বিশ্বমঞ্চে সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হবে।
