বক্সায় নতুন অতিথি, বিহার থেকে আনা বাঘিনিকে ঘিরে উৎসাহ
বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে প্রায় তিন বছরের বাঘিনিকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে আনা হয়েছে। ২ অক্টোবর প্রোটোকল মেনে তাকে মুক্ত জঙ্গলে ছাড়ার উদ্যোগ।
বক্সায় নতুন অতিথি, বিহার থেকে আনা বাঘিনিকে ঘিরে উৎসাহ
আলিপুরদুয়ার: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে নতুন অতিথিকে ঘিরে উৎসাহের পরিবেশ। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে প্রায় তিন বছরের একটি বাঘিনিকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট এনক্লোজ়ারে রাখার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা, আচরণ ও গতিবিধির উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে বন দফতর।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন পরিবেশে পৌঁছনোর পর বাঘিনিটির স্বাভাবিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এনক্লোজ়ারে থাকা CCTV ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, জলাশয়ে শরীর ডুবিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বসে রয়েছে বাঘিনিটি। নতুন পরিবেশের সঙ্গে তার মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও নজরে রাখা হচ্ছে।
বাঘিনিটির গলায় ইতিমধ্যেই রেডিয়ো কলার পরানো হয়েছে। ভবিষ্যতে তাকে মুক্ত জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার পর তার অবস্থান, চলাফেরা এবং আচরণ পর্যবেক্ষণে এই রেডিয়ো কলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে ২ অক্টোবর বাঘিনিটিকে বক্সার মুক্ত জঙ্গলে ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার আগে এনক্লোজ়ারে প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বন দফতরের নজরদারিতে ধাপে ধাপে তার অভিযোজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। মুক্ত জঙ্গলে যাওয়ার পর বাঘিনিটি কীভাবে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেয় এবং তার গতিবিধি কোন পথে এগোয়, এখন মূলত সেই দিকেই নজর বন দফতরের।
এদিকে বক্সায় বাঘ ফেরার এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ। এই বিশেষ মুহূর্তকে ঘিরে নিজের লেখা ও সুরে গান বেঁধেছেন লোকসংগীত শিল্পী রাজীব দেবনাথ। বাঘিনিকে ঘিরে আয়োজিত মুহূর্তে সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাওকেও শিল্পীর সঙ্গে গানে সঙ্গ দিতে দেখা যায়। সেই মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে নতুন বাঘিনির আগমন এবং তাকে ঘিরে বন দফতরের নজরদারি ও সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। এখন বক্সার জঙ্গলে তার অভিযোজন এবং পরবর্তী গতিবিধির দিকেই নজর থাকবে বনপ্রেমী ও বন্যপ্রাণপ্রেমীদের।
