নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, মোতায়েন ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে শুরু উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় চলছে ভোট, ৯ অক্টোবর প্রকাশ হবে ফলাফল।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে শুরু উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৯ : পশ্চিমবঙ্গের দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে শুরু হয়েছে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৭টা থেকে দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দায়িত্বে রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের কর্মীরাও নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন রয়েছেন।
নন্দীগ্রামে ৩২৩টি কেন্দ্রে ভোট
নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৩২৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে ৭৯টি বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বাড়তি নজরদারি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নন্দীগ্রামের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিং-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে বুথের পরিস্থিতির ওপর কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে। ভোট চলাকালীন কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও প্রশাসনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
রেজিনগরেও কড়া নিরাপত্তা
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৩১৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এই কেন্দ্রের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বুথের আশপাশে যাতে কোনও ধরনের গোলমাল বা অশান্তি তৈরি না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
দুই কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণের আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানের সুযোগ করে দিতে বুথ চত্বরে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।
কেন হচ্ছে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হওয়ার কারণেই এবার উপনির্বাচন হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অন্য আসন ভবানীপুর ধরে রাখেন। ফলে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
এই কারণে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন শুরু থেকেই রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ ভোটার—সকলেরই নজর রয়েছে এই কেন্দ্রের ফলাফলের দিকে।
রেজিনগরেও আসন শূন্য হওয়ার কারণ
রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও একইভাবে আসন শূন্য হওয়ার কারণে উপনির্বাচন হচ্ছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর এবং নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন।
দুই আসনে জয়ী হওয়ার পর তিনি নওদা আসনটি ধরে রাখেন। ফলে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সেই শূন্য আসনেই আজ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ফলাফলের দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনই রাজ্য রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটারদের রায় কোন দিকে যায়, তা জানতে এখন অপেক্ষা করতে হবে গণনার দিন পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ ভোটগণনা হবে এবং সেদিনই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ফলে আজকের ভোটগ্রহণের পর রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নজর থাকবে ৯ অক্টোবরের ফলাফলের দিকে।
কড়া নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মধ্যে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটগ্রহণ কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, এখন সেদিকেই নজর নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক মহলের।
