সুপ্রিম কোর্টে ৩ নতুন বিচারপতি, বেড়ে ৩৭ সংখ্যা; খালি মাত্র ১ পদ
সুপ্রিম কোর্টে নতুন তিন বিচারপতি নিয়োগ। সুনীতা আগরওয়াল, দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও আপারেশ কুমার সিংহের যোগদানে বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে ৩৭, খালি মাত্র ১ পদ।
সুপ্রিম কোর্টে তিন নতুন বিচারপতি, বেঞ্চের সংখ্যা বেড়ে ৩৭!

নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ৩ : সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। শীর্ষ আদালতে নতুন করে
তিনজন বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গুজরাট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল, দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আপারেশ কুমার সিংহ। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ও নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারির পর তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এই তিন বিচারপতির নিয়োগের ফলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বর্তমানে কর্মরত বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির অনুমোদিত মোট পদসংখ্যা ৩৮। ফলে নতুন নিয়োগের পরও শীর্ষ আদালতে মাত্র একটি বিচারপতির পদ খালি রয়েছে।
কারা এলেন সুপ্রিম কোর্টে?
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত তিন বিচারপতিই দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে তাঁদের দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা সুপ্রিম কোর্টের বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল এতদিন গুজরাট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিষয়েও তিনি একাধিক মামলার শুনানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি।
অন্যদিকে বিচারপতি আপারেশ কুমার সিংহ তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। উল্লেখ্য, তাঁর নামের ক্ষেত্রে পূর্বের তথ্যে কিছুটা ভুল ছিল। সঠিক নাম বিচারপতি আপারেশ কুমার সিংহ।
শীর্ষ আদালতে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ায় কী প্রভাব পড়বে?
সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গতি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মামলা, আবেদন ও সাংবিধানিক বিষয়ে শুনানি হয়। ফলে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি থাকা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি, সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও জনস্বার্থ সংক্রান্ত মামলার শুনানির ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মাত্র একটি পদ খালি
তিন নতুন বিচারপতির নিয়োগের ফলে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত ৩৮টি বিচারপতি পদের মধ্যে এখন ৩৭টি পদ পূর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে মাত্র একটি পদ শূন্য রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় কলেজিয়ামের সুপারিশ, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন এবং পরবর্তী সরকারি বিজ্ঞপ্তি—একাধিক ধাপ রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন বিচারপতিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ আদালতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিন নতুন বিচারপতির যোগদানের ফলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হল। আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক, ফৌজদারি, দেওয়ানি, প্রশাসনিক এবং জনস্বার্থমূলক মামলার দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তিতে এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেই আইন মহলের একাংশের মত।
