বক্সায় নতুন বাঘিনী, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে নতুন বাঘিনীর নিরাপত্তায় ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ। বন্ধ জঙ্গল সাফারি, ডে-ভিজিট ও কোর এলাকায় রাত্রিযাপন।
বক্সায় নতুন বাঘিনীর নিরাপত্তায় ৯ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ

আলিপুরদুয়ার, এনভায়রনমেন্টাল ডেস্ক ৪ : উৎসবের মরসুমে উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে নতুন অতিথির আগমন ঘিরে বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসাহ। তবে নতুন পরিবেশে বাঘিনীটির নিরাপদে মানিয়ে নেওয়া এবং তার স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এবার পর্যটকদের জন্য জারি হল সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। বন দফতরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বন দফতরের এই সিদ্ধান্তের ফলে বক্সার জঙ্গলে আপাতত বন্ধ থাকবে জঙ্গল সাফারি থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটকদের ডে-ভিজিট। একইসঙ্গে কোর এলাকার মধ্যে পর্যটকদের রাত্রিযাপন এবং হোমস্টে বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
🐯 বাল্মীকি থেকে বক্সায় নতুন বাঘিনী
বাঘ পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে একটি বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে আনা হয়েছে। বন দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে বাঘিনীটিকে মুক্ত করা হয়।
নতুন জঙ্গল, নতুন পরিবেশ এবং নতুন এলাকার সঙ্গে বাঘিনীটি যাতে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারে, তার জন্য এই সময়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মানুষের উপস্থিতি, যানবাহনের শব্দ কিংবা পর্যটকদের চলাচল যাতে তার স্বাভাবিক আচরণ ও গতিবিধিতে কোনও প্রভাব না ফেলে, সেই কারণেই পর্যটন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
🚫 কী কী বন্ধ থাকছে?
বন দফতরের নির্দেশিকার ফলে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বেশ কিছু পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- সমস্ত ধরনের জঙ্গল সাফারি বা জিপসি সাফারি।
- সাধারণ পর্যটকদের ডে-ভিজিট বা জঙ্গলে প্রবেশ।
- বক্সা অরণ্যের কোর এলাকার মধ্যে পর্যটকদের রাত্রিযাপন।
- সংশ্লিষ্ট এলাকায় হোমস্টে বুকিং ও পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা।
- রাজাভাতখাওয়া ফরেস্ট গেট দিয়ে জয়ন্তী, বক্সা পাহাড় ও লেপচাখার দিকে পর্যটকদের যাতায়াতও আপাতত বন্ধ।
ফলে যারা পুজোর ছুটিতে বক্সা, জয়ন্তী বা লেপচাখা যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
⏳ প্রথমে চার দিন, পরে আরও বাড়ল নিষেধাজ্ঞা
বক্সায় পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রথমে স্বল্প সময়ের জন্য নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছিল।
কিন্তু বাঘিনীটিকে নতুন পরিবেশে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়। বন দফতরের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এবার ৯ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
অর্থাৎ, বাঘিনীটির স্বাভাবিক চলাচল ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পূর্বনির্ধারিত সময়সীমার তুলনায় আরও কয়েক দিন পর্যটন নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
🌳 কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ বাঘিনীর নিরাপত্তা?
বাঘকে এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে স্থানান্তরের পর নতুন পরিবেশের সঙ্গে তার মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এলাকায় খাবারের উৎস, জল, নিরাপদ আশ্রয় এবং চলাচলের পথ সম্পর্কে প্রাণীটির স্বাভাবিকভাবে অভ্যস্ত হয়ে ওঠার প্রয়োজন হয়।
এই সময় মানুষের আনাগোনা কিংবা অতিরিক্ত শব্দ বাঘিনীর স্বাভাবিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বন দফতর পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে বাঘিনীটিকে অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি পরিবেশ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
🧳 পর্যটন ব্যবসায় চাপ
পুজোর মরসুমে উত্তরবঙ্গের বক্সা, জয়ন্তী ও লেপচাখা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এই সময়ে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার কথা থাকলেও নতুন বাঘিনীর নিরাপত্তার কারণে পর্যটন পরিষেবা বন্ধ থাকায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের উপর তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিশেষ করে হোমস্টে, লজ এবং পর্যটন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বুকিং বাতিল বা স্থগিত হওয়ার কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন। পুজোর মরসুমকে কেন্দ্র করে যাঁরা পর্যটকের অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের জন্য হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🐅 বাঘের আগমনে উৎসাহ, সংরক্ষণে অগ্রাধিকার
একদিকে নতুন বাঘিনী বক্সার জঙ্গলে আসায় বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বনাঞ্চলের পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। ফলে পর্যটকদের কিছুটা অসুবিধা হলেও বাঘিনীটির নতুন আবাসস্থলে নিরাপদে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বক্সা, জয়ন্তী, বক্সা পাহাড় ও লেপচাখা যাওয়ার পরিকল্পনা করা পর্যটকদের রওনা হওয়ার আগে বন দফতরের সর্বশেষ নির্দেশিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
