আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে উদ্বিগ্ন হাই কোর্ট, দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ
কলকাতা হাই কোর্টের উদ্বেগ, ব্যাঙ্কশাল ও চন্দননগর আদালতে আইনজীবীদের কর্মবিরতি দ্রুত প্রত্যাহারে উদ্যোগের নির্দেশ। নিরাপত্তা নিয়ে শুনানিতে একাধিক হামলার অভিযোগ।
আইনজীবীদের কর্মবিরতিতে উদ্বিগ্ন কলকাতা হাই কোর্ট, দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

কলকাতা, ন্যাশনাল ডেস্ক ৩ : রাজ্যের একাধিক আদালতে আইনজীবীদের নিরাপত্তা এবং কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত এবং চন্দননগর আদালতে চলতে থাকা আইনজীবীদের কর্মবিরতি দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিল হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য বার কাউন্সিলের এক সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বারুইপুর আদালতে আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাই কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে একটি জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করেছে। ওই মামলার শুনানিতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আইনজীবীদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ এবং তার জেরে আদালতগুলিতে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার বিষয়টি সামনে আসে।
বুধবার মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানিতে আইনজীবী শুভঙ্কর নাগ আদালতের সামনে অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আইনজীবীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ব্যাঙ্কশাল ও চন্দননগর আদালতে চলা কর্মবিরতির বিষয়টিও তুলে ধরেন।
আইনজীবীদের কর্মবিরতির ফলে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে আদালত। কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত না করে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উপর জোর দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। বার কাউন্সিলের সদস্যকে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শালবনিতে আইনজীবীদের উপর হামলার অভিযোগ
শুনানির সময় শালবনিতে কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী শামিম আহমেদের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও আদালতের নজরে আনেন শুভঙ্কর নাগ। বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে রয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার শালবনি থেকে ফেরার পথে আইনজীবী শামিম আহমেদ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য আইনজীবীরা হামলার মুখে পড়েন। শামিম আহমেদের দাবি, তাঁরা বেনাচাপাড়ায় ঘরছাড়া পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় তাঁদের গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই একদল ব্যক্তি বাঁশ, শাবল এবং লাঠি নিয়ে তাঁদের গাড়িতে হামলা চালায়। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি সঙ্গে থাকা এক মহিলা আইনজীবীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
শামিম আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির নজরে আসে। পরে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে আক্রান্ত আইনজীবীদের সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
বারুইপুর আদালতে আইনজীবী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে শালবনিতে আইনজীবীদের উপর হামলার অভিযোগ—পরপর এমন ঘটনায় আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন আদালতে কর্মবিরতির জেরে বিচারপ্রক্রিয়া কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইনজীবীদের অভিযোগ এবং নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম যাতে দীর্ঘদিন ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে চাইছে হাই কোর্ট।
বার কাউন্সিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজার নির্দেশকে তাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে আলোচনার মাধ্যমে কর্মবিরতি উঠে যায় কি না এবং আইনজীবীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সে দিকেই এখন নজর রয়েছে।
