মাঝআকাশে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির কবলে ইন্ডিগোর বিমান, অক্ষত ১১০ জন
পাটনা থেকে লখনউগামী ইন্ডিগোর 6E 925 বিমান ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত রাডোম, নিরাপদে অবতরণ ১১০ জনের।
মাঝআকাশে বজ্রপাত-শিলাবৃষ্টির কবলে ইন্ডিগোর বিমান

ন্যাশনাল ডেস্ক ২ : পাটনা থেকে লখনউগামী ইন্ডিগোর বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির ঘটনা। প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় প্রবল আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে বিমানের সামনের অংশ বা ‘রাডোম’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পাইলটের দক্ষতায় বিমানটি নিরাপদেই লখনউ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানে থাকা ১০৪ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু সদস্য—মোট ১১০ জনই অক্ষত রয়েছেন।
৭ অক্টোবর, বুধবার, পাটনা থেকে লখনউয়ের উদ্দেশে উড়েছিল ইন্ডিগোর 6E 925 বিমানটি। উড়ানের মাঝপথে প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতায় বিমানটি হঠাৎ প্রবল বজ্রপাত এবং শিলাবৃষ্টির মধ্যে পড়ে। প্রতিকূল আবহাওয়ার ধাক্কায় বিমানের সামনের অংশে থাকা রাডোম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাডোম হল বিমানের নাকের অংশে থাকা একটি বিশেষ আবরণ, যার ভিতরে আবহাওয়া শনাক্তকারী রাডার ব্যবস্থা থাকে।
প্রবল শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে পড়লেও বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হন পাইলট। পরিস্থিতি সামলে বিমানটিকে লখনউয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। জানা গিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৮ মিনিট আগেই বিমানটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
অবতরণের পর বিমানটির সামনের অংশ পরীক্ষা করতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাডোমের একটি বড় অংশ তুবড়ে ও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মাঝআকাশে এতটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়েও বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিমানে ছিলেন ১১০ জন
ঘটনার সময় বিমানে মোট ১০৪ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকেই নিরাপদে বিমান থেকে নামতে সক্ষম হন। ঘটনায় কোনও যাত্রী বা ক্রু সদস্যের আহত হওয়ার খবর নেই।
তদন্ত শুরু, বিমান গ্রাউন্ডেড
ঘটনার পর বিমানটির কারিগরি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতি এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত টেকনিক্যাল ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত বিমানটিকে লখনউ বিমানবন্দরেই গ্রাউন্ডেড (AOG) রাখা হয়েছে।
বিমানটির পরবর্তী উড়ান হিসেবে লখনউ থেকে আহমেদাবাদ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঝআকাশের এই ঘটনার পর সেটি আর পরিষেবা দিতে পারেনি। যাত্রীদের যাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য তাঁদের জন্য বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ফের একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল, উড়ানের সময় আকস্মিক বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টি বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে পাইলটের দক্ষতা, বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পদক্ষেপের কারণে এবার বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
