ভুটান ঘাটে মহাগুরু মিঠুন, ডুয়ার্সের পর্যটন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখলেন
ডুয়ার্সের পর্যটন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ভুটান ঘাট পরিদর্শন করলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক মনোজ ওরাঁও ও বন দপ্তরের আধিকারিকরা।
ডুয়ার্সের পর্যটন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ভূটান ঘাটে মহাগুরু

আলিপুরদুয়ার, লোকাল ডেস্ক ৭: উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের পর্যটন মানচিত্রে ভুটান ঘাটের গুরুত্ব আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী এই পর্যটনকেন্দ্রে পরিদর্শনে এলেন প্রখ্যাত অভিনেতা তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের নবনিযুক্ত উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার তাঁর এই সফরকে ঘিরে ভুটান ঘাট এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। প্রিয় অভিনেতা ‘মহাগুরু’-কে এক ঝলক দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমান।
তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও সংস্কৃতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে মিঠুন চক্রবর্তীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার জেলার ডুয়ার্স অঞ্চল তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বনাঞ্চল, পাহাড়-নদী এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বৈচিত্র্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র। সেই পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই ভুটান ঘাটের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন তিনি।
সফরে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাদারিহাটের বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মনোজ ওরাঁও এবং বন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ভুটান ঘাটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, পর্যটকদের আকর্ষণের জায়গাগুলি এবং পর্যটন পরিকাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভুটান ঘাট ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এই এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার বৈশিষ্ট্যকে যুক্ত করে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ভুটান ঘাটকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার সুযোগ রয়েছে। পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়গুলিও ভবিষ্যতে গুরুত্ব পেতে পারে।
মিঠুন চক্রবর্তীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ছিল প্রবল উৎসাহ। সকাল থেকেই ভুটান ঘাট এলাকায় তাঁকে দেখতে বহু মানুষ জড়ো হন। অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখতে পেয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীরাও তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
শুধু পর্যটন নয়, ডুয়ার্সের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও বৃহত্তর পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, লোকসংস্কৃতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সীমান্ত এলাকার বৈশিষ্ট্যকে সামনে রেখে নতুন পর্যটন আকর্ষণ তৈরি করা যায় কি না, সেই বিষয়টিও এই সফরের পর আলোচনায় এসেছে।
আলিপুরদুয়ারকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ভুটান ঘাটের মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মিঠুন চক্রবর্তীর এই পরিদর্শনের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাই নতুন করে সামনে এল। আগামী দিনে পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের প্রসারে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
