তিন রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ, কড়া নিরাপত্তায় চলছে নির্বাচন
বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু। কড়া নিরাপত্তায় চলছে নির্বাচন, ফল ঘোষণা হবে ৩ আগস্ট।
তিন রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ, কড়া নিরাপত্তায় চলছে নির্বাচন
নয়াদিল্লি: বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আগামী ৩ আগস্ট ভোট গণনার মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এই উপনির্বাচনের ফল সংশ্লিষ্ট তিন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিহারের বাঁকিপুর কেন্দ্রে বিজেপি নেতা নিতিন নবীনের পদত্যাগের ফলে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির নীরজ কুমার সিনহা, আরজেডির রেখা গুপ্তা এবং জন সুরাজ পার্টির প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।

মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতীর পদ শূন্য হওয়ায় ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এখানে বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি এবং কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কুনওয়ার ঘনশ্যাম সিংহের মধ্যে সরাসরি লড়াই।
অন্যদিকে, গুজরাটের মঞ্জলপুর কেন্দ্রে বিজেপির প্রবীণ বিধায়ক যোগেশ প্যাটেলের মৃত্যুর কারণে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির সতীশ প্যাটেল এবং কংগ্রেসের ভিখাভাই রাবারীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়ায় সর্বাধিক ৩২.৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। গুজরাটের মঞ্জলপুরে ভোটদানের হার ১৪.২৭ শতাংশ এবং বিহারের বাঁকিপুরে ১১.৫০ শতাংশ।

এদিকে, বিহারের বাঁকিপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। জন সুরাজ পার্টির অভিযোগ, তাদের কর্মীদের অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে এবং বুথ পরিচালনায় বাধা দেওয়া হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার দাবি করেছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সব ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ও ভিভিপ্যাটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ চলছে। পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর আগামী ৩ আগস্টের ফলাফলের দিকে। শাসক দল নিজেদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে পারে, নাকি বিরোধীরা চমক দেখাতে সক্ষম হয়— সেই উত্তর মিলবে ভোটগণনার দিন।
