হাইকোর্টে জাল কেস ডায়েরির অভিযোগ, দিনহাটা থানার পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে জাল কেস ডায়েরির অভিযোগে দিনহাটা থানার একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ। বিচারপতি শম্পা সরকারের কড়া পর্যবেক্ষণে চাঞ্চল্য।
হাইকোর্টে জাল কেস ডায়েরি! দিনহাটা থানার পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
সিটি নিউজ বাংলা: আদালতে জাল নথি পেশের অভিযোগে বড় বিতর্কে দিনহাটা থানার একাধিক পুলিশ আধিকারিক। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে একটি মামলার শুনানির সময় কেস ডায়েরিতে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি শম্পা সরকার। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ঘটনার সূত্র ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল দিনহাটা থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। ওই মামলায় অভিযুক্ত মৃণাল মিয়াঁ ওরফে মিনারুল ইসলামের আগাম জামিনের আবেদনের শুনানির সময় প্রথমে আদালতে কেস ডায়েরি জমা পড়েনি। পরে একটি কেস ডায়েরি জমা হলেও তা খতিয়ে দেখে একাধিক অসঙ্গতি নজরে আসে। সরকারি আইনজীবী অভ্রজ্যোতি দাস বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।

এরপর আদালতের নির্দেশে তৎকালীন তদন্তকারী আধিকারিক সুধাব্রত মুখোপাধ্যায় এবং ফরওয়ার্ডিং অফিসার সাব-ইনস্পেক্টর অ্যান্থনি হোড় এজলাসে হাজির হন। শুনানির সময় তদন্তকারী আধিকারিক স্পষ্ট জানান, আদালতে জমা পড়া কেস ডায়েরিতে থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয়। অন্যদিকে অ্যান্থনি হোড় দাবি করেন, তিনি শুধুমাত্র ফরওয়ার্ডিং চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, কেস ডায়েরির ভেতরের বিষয়বস্তু তিনি যাচাই করেননি।
শুনানিতে আরও উঠে আসে, আদালতে জমা পড়া কেস ডায়েরির ভেতরে অভিযুক্তদের যে বক্তব্য লেখা রয়েছে, তা তদন্তকারী আধিকারিকের হাতের লেখা নয়। ফলে আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, কেস ডায়েরির সত্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে এবং নথিটি জাল হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়াও মামলার গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আদালতের মতে, পুলিশের জমা দেওয়া একাধিক নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ফলে আসল কেস ডায়েরি কোথায়, কারা এই নথি তৈরি করেছে এবং কীভাবে তা আদালতে জমা পড়ল—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বিচারপতি শম্পা সরকার নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতে পাঠানো কেস ডায়েরিটি মুখবন্ধ খামে কোচবিহারের পুলিশ সুপারের কাছে ফেরত পাঠানো হবে। একইসঙ্গে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আইনজীবী অভ্রজ্যোতি দাস বলেন, আদালতে জাল তথ্য পেশের মতো ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
