স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলেও মেলেনি ডায়ালিসিস! কোচবিহারের নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে CMOH-এর কাছে অভিযোগ
স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও কোচবিহারের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ডায়ালিসিস পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ। রোগীর পরিবার CMOH-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে।
স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলেও মেলেনি ডায়ালিসিস ! নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে CMOH-এর দ্বারস্থ রোগীর পরিবার সিটি নিউজ বাংলা, হেল্থ ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বহুল প্রচারিত ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কোচবিহারের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ডায়ালিসিস পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অভিযোগের তীর কোচবিহার-১ ব্লকের পি কে সাহা হাসপাতাল-এর বিরুদ্ধে। জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে রোগীর পরিবার সরাসরি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH)-এর দপ্তরে লিখিত ডেপুটেশন জমা দিয়েছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর পরিবারের কাছে বৈধ স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ডায়ালিসিস পরিষেবা দিতে অস্বীকার করে। ফলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও পরিবার চরম দুশ্চিন্তা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
ডায়ালিসিস এমন একটি চিকিৎসা, যা কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত এবং জীবনরক্ষাকারী পরিষেবা হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এই ধরনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখছে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। রোগীর পরিবারের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও হাসপাতালের আচরণে তাঁরা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। এরপরই তাঁরা CMOH-এর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের নিয়ম ভঙ্গ করে পরিষেবা দিতে অস্বীকার করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এর মধ্যে আর্থিক জরিমানা, কারণ দর্শানোর নোটিস কিংবা স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের অনুমোদিত তালিকা (প্যানেল) থেকে হাসপাতালের নাম বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রোগীদের জন্য অনুমোদিত হাসপাতালগুলিতে ডায়ালিসিস সম্পূর্ণ ক্যাশলেস বা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা। কোনো অবস্থাতেই রোগীর কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ দাবি করা বা পরিষেবা প্রত্যাখ্যান করা নিয়মবিরুদ্ধ। পাশাপাশি প্রতিটি ডায়ালিসিস ইউনিটকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে হবে এবং নতুন রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি ও পরীক্ষার রিপোর্ট নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করাও বাধ্যতামূলক।
স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, কোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতাল যদি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরাসরি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮০০-৩৪৫-৫৩৮৪-এ যোগাযোগ করা বা অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেও বিষয়টি জানানো যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখন জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের তদন্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রোগীর পরিবারসহ সাধারণ মানুষের।
