ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতি ঘিরে উত্তাল আন্দোলন, প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় গ্রেপ্তার ১৯ | CT News Bangla
JPSC ও JSSC নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়খণ্ডে তীব্র আন্দোলন। CID তদন্তে ইতিমধ্যেই ১৯ জন গ্রেপ্তার। আন্দোলনকারীদের CBI তদন্তের দাবি। বিস্তারিত পড়ুন CT News Bangla-তে।
ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতি ঘিরে উত্তাল আন্দোলন
সিটি নিউজ বাংলা, এডুকেশন ডেস্ক : ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি (JPSC) ও জেএসএসসি (JSSC) নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা ১৩ দিন ধরে বিক্ষোভে সামিল চাকরিপ্রার্থীরা। আন্দোলনের জেরে রাজ্যজুড়ে চাপ বাড়তেই তদন্তে নেমেছে সিআইডি (CID)। ইতিমধ্যেই এই মামলায় মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে।

সিআইডির সাম্প্রতিক অভিযানে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন পরীক্ষার্থী দালালচক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ, অপরজন ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনের (JPSC) প্রাক্তন চেয়ারম্যানের কম্পিউটার অপারেটর।
তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল।
এদিকে তদন্তের অংশ হিসেবে জেপিএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান এল. খিয়াংতেকেও একাধিক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ২৫ কোটি টাকার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সন্ধান মিলেছে বলে জানা গেছে। এই মামলায় রাঁচি, ধানবাদ, হাজারীবাগ-সহ ঝাড়খণ্ডের একাধিক এলাকা এবং বিহারের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছেন। তবে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত হলেও বৈঠকটি মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে। বন্ধ ঘরে কোনো বৈঠক তাঁরা মেনে নেবেন না।
আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু সিআইডি তদন্তে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। গোটা নিয়োগ দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআই অথবা রাজ্যের বাইরের কোনো অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
নিয়োগে স্বচ্ছতা, দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
