লাউডস্পিকার নিয়ে কড়া পদক্ষেপ, রাজ্যজুড়ে ৫,২৯৯ মাইক অপসারণ: তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে লাউডস্পিকার অপসারণ অভিযান। প্রশাসনের দাবি, ৫,২৯৯টির বেশি মাইক খোলা হয়েছে। অভিযান ঘিরে শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক।
লাউডস্পিকার নিয়ে কড়া পদক্ষেপ! রাজ্যজুড়ে ৫,২৯৯-এর বেশি মাইক খুলল পুলিশ, তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক
সিটি নিউজ বাংলা,কলকাতা, স্টেট ডেস্ক : শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং আদালতের নির্দেশিকা কার্যকর করতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে লাউডস্পিকার নিয়ে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ-প্রশাসন। প্রশাসনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত ৫,২৯৯টিরও বেশি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪,২০৩টি মসজিদ এবং ১,০৯৬টি মন্দির থেকে লাউডস্পিকার খোলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শব্দসীমা মেনে চলা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতেই এই অভিযান বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধি ও আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান-সহ বিভিন্ন জায়গায় নির্ধারিত শব্দসীমা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
তবে পুলিশি অভিযানে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী-সহ বিরোধী শিবিরের একাংশের অভিযোগ, অনেক জায়গায় কোনও লিখিত নোটিশ বা সরকারি নির্দেশিকা না দেখিয়েই পুলিশ মৌখিকভাবে লাউডস্পিকার খুলে ফেলতে বাধ্য করছে। বিষয়টি নিয়ে মুসলিম সংগঠনগুলির একাংশও আপত্তি জানিয়েছে বলে খবর।
অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে কয়েকটি মসজিদে পুলিশ গিয়ে মাইক খুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের বক্তব্য, কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে না।
প্রশাসনের দাবি, মসজিদ, মন্দির-সহ সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই শব্দের নির্ধারিত সীমা এবং আদালতের নির্দেশিকা সমানভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
লাউডস্পিকার অপসারণের সংখ্যা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ ও প্রশাসনের বক্তব্যের মধ্যে কার্যত নতুন করে সামনে এসেছে ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি বিধি কার্যকরের প্রশ্ন।
আগামী দিনে এই অভিযান আরও
জোরদার হয় কি না এবং লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্যজুড়ে কী ধরনের নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
