চীন সফরে অজিত ডোভাল। ২৫তম বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠকে LAC, সীমান্ত শান্তি ও ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
চীন সফরে অজিত ডোভাল, ২৫তম দফার সীমান্ত বৈঠকে নজর ভারত-চীন সম্পর্কের দিকে
নয়াদিল্লি/বেইজিং, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের সীমান্ত আলোচনায় অংশ নিতে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা LAC বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

চীন সফরে অজিত ডোভালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে। চীনের শীর্ষ কূটনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় সীমান্ত সমস্যা ছাড়াও ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হতে পারে।
ওয়াং ই ও হান ঝেং-এর সঙ্গে বৈঠক
সফরকালে অজিত ডোভালের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের আলোচনায় সাধারণত সীমান্ত সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ফলে এবারও LAC বরাবর শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, সীমান্তে সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলি আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।
২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা
ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ২৫তম দফার এই বৈঠক সেই ধারাবাহিকতারই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সীমান্তকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক আস্থার ক্ষেত্রেও। তাই সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক সম্পর্ককে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার পথ খোঁজাও এবারের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ভারত-চীন সম্পর্কের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বার্তাই এই আলোচনায় ফের তুলে ধরা হতে পারে।
ব্রিকস সম্মেলনের আগে তাৎপর্যপূর্ণ সফর
অজিত ডোভালের এই চীন সফরের সময়কালও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ডোভালের বেইজিং সফরকে ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত ইস্যুতে কিছুটা অগ্রগতি হলে আগামী দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পরিবেশও আরও ইতিবাচক হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
বরফ গলানোর চেষ্টা ভারত-চীনের
সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক সেই যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
এবারের আলোচনায় সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সীমান্তে যাতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি না হয়, সেজন্য যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।
নজর শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরে
আগামী মাসে সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে ভারত-চীন কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শি জিনপিং ভারতে এলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও থাকবে। তার আগে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে অজিত ডোভাল ও চীনা নেতৃত্বের আলোচনাকে তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সীমান্ত বিরোধের মতো জটিল বিষয়ে রাতারাতি সমাধানের সম্ভাবনা নেই। একাধিক পর্যায়ে আলোচনা, পারস্পরিক আস্থা এবং বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ে ২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠকের ফলাফলের দিকে নজর থাকবে দিল্লি থেকে বেইজিং—দুই দেশের কূটনৈতিক মহলেরই।
অজিত ডোভালের বেইজিং সফর ভারত-চীন সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এই বৈঠক কতটা ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলে।
