দেশেই তৈরি হবে বুলেট ট্রেন! BEML পেল ৫,৪০০ কোটির বেশি টাকার অর্ডার
ভারতে তৈরি হবে হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন। MAHSR প্রকল্পে NHSRCL-এর কাছ থেকে ৫,৪০০ কোটির বেশি টাকার অর্ডার পেল BEML। তৈরি হবে ১৬টি ৮-কোচের ট্রেনসেট।
দেশেই তৈরি হবে বুলেট ট্রেন! ৫,৪০০ কোটিরও বেশি টাকার অর্ডার পেল BEML

নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ৭ : ভারতের উচ্চগতির রেল পরিষেবার ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হল। মুম্বই-আমেদাবাদ হাই স্পিড রেল বা MAHSR (Mumbai-Ahmedabad High Speed Rail) প্রকল্পের জন্য সরকারি সংস্থা BEML Limited-কে ৫,৪০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একটি বিশাল অর্ডার দিয়েছে National High Speed Rail Corporation Limited (NHSRCL)। এই চুক্তিকে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উচ্চগতির ট্রেন তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, BEML মোট ১৬টি হাই-স্পিড ট্রেনসেট তৈরি ও সরবরাহ করবে। প্রতিটি ট্রেনসেটে থাকবে ৮টি করে কোচ। অর্থাৎ, এই প্রকল্পের জন্য মোট ১২৮টি হাই-স্পিড কোচ তৈরি করবে সংস্থাটি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ট্রেনগুলি দেশীয় প্রযুক্তি ও ভারতের মাটিতে তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটবে ট্রেন
প্রস্তাবিত B28 কোডনেমের এই হাই-স্পিড ট্রেনগুলির সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় প্রায় ২৮০ কিলোমিটার। উচ্চগতির এই ট্রেনগুলির নকশা, উৎপাদন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত কাজের মাধ্যমে ভারতীয় রেল শিল্পের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ট্রেনগুলি তৈরি হবে বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত BEML-এর বিশেষায়িত ‘আদিত্য হাই স্পিড রেল কমপ্লেক্স’-এ। অর্থাৎ, দেশের মাটিতেই উচ্চগতির রেলের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক রোলিং স্টক তৈরির পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা নিতে চলেছে।
শুধু ট্রেন তৈরি নয়, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও BEML-এর
৫,৪০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই চুক্তির পরিধি শুধুমাত্র ট্রেন উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। BEML-কে দীর্ঘমেয়াদে এই হাই-স্পিড ট্রেনগুলির রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক পরিষেবার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
চুক্তির আওতায় প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে ট্রেনগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকছে। ফলে ট্রেন তৈরি থেকে শুরু করে পরিষেবায় রাখার পরবর্তী পর্যায় পর্যন্ত BEML-এর ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে।
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-য় বড় পদক্ষেপ
মুম্বই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের শুরু থেকেই বিদেশি প্রযুক্তি ও দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা ছিল। জাপানের শিনকানসেন প্রযুক্তির সঙ্গে সহযোগিতার পরিকল্পনা সামনে এলেও পরবর্তীতে ব্যয় ও প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে দেশীয়ভাবে হাই-স্পিড ট্রেন তৈরির উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
BEML-এর হাতে এই বিশাল অর্ডার যাওয়ায় সেই দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাই আরও জোরদার হল। এর ফলে ভবিষ্যতে শুধু মুম্বই-আমেদাবাদ করিডোর নয়, দেশের অন্যান্য সম্ভাব্য হাই-স্পিড রেল প্রকল্পেও ভারতীয় সংস্থাগুলির তৈরি ট্রেন ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
৫০৮ কিলোমিটারের করিডোরে বদলাবে যাতায়াতের চিত্র
মুম্বই-আমেদাবাদ হাই স্পিড রেল করিডোরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ চালু হলে মুম্বই ও আমেদাবাদের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো করিডোর চালুর আগে ধাপে ধাপে পরিষেবা শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে সুরাট-ভাপি অংশে প্রথম বাণিজ্যিক হাই-স্পিড রেল পরিষেবা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
ভারতের রেল প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায়
এতদিন বুলেট ট্রেন বলতে মূলত বিদেশি প্রযুক্তির কথাই সামনে এসেছে। এবার ভারতের সরকারি সংস্থা BEML-এর মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিতে উচ্চগতির ট্রেন তৈরির উদ্যোগ সেই ধারণায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
৫,৪০০ কোটি টাকারও বেশি এই অর্ডার শুধু BEML-এর জন্য একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং ভারতের হাই-স্পিড রেল উৎপাদন পরিকাঠামো, দেশীয় প্রযুক্তি এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগামী দিনে এই প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা দেশের অন্যান্য উচ্চগতির রেল প্রকল্পে কতটা কাজে লাগে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
