উৎসবের আগে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে কড়া কেন্দ্র, মজুতসীমা কমে ১৫ দিন
উৎসবের মরশুমে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। বাল্ক কনজিউমারদের মজুতসীমা ৩০ দিন থেকে কমে ১৫ দিন, ১০ লক্ষ টন কাঁচা চিনি আমদানির অনুমতি।
উৎসবের মরশুমে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে কড়া কেন্দ্র, ৩০ দিনের মজুতসীমা কমে ১৫ দিন
নয়াদিল্লি, সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক: উৎসবের মরশুমের আগে দেশে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। কালোবাজারি, মজুতদারি এবং কৃত্রিম সংকট রুখতে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা বা ‘বাল্ক কনজিউমার’-দের জন্য চিনির মজুতের সময়সীমা কমিয়ে ৩০ দিন থেকে ১৫ দিন করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট শ্রেণির বড় ক্রেতারা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের প্রয়োজনীয় চিনি মজুত রাখতে পারবেন। মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থা, বিস্কুট ও কনফেকশনারি শিল্প, সফ্ট ড্রিঙ্কস প্রস্তুতকারক সংস্থা-সহ বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান এই নিয়মের আওতায় পড়বে।

১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন নিয়ম
কেন্দ্রের এই নতুন নির্দেশিকা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো এবং দীপাবলির মতো বড় উৎসবের সময়ে চিনির চাহিদা বাড়ে। সেই সময় অতিরিক্ত মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিলারদের ক্ষেত্রেও মজুতসীমা নির্ধারিত
চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে ডিলারদের ওপরও ইতিমধ্যেই মজুতসীমা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র। গত জুলাইয়ে ডিলারদের সর্বোচ্চ ৪,০০০ কুইন্টাল চিনি মজুত রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মজুতের বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছিল, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।
এবার বড় প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও মজুতের সময়সীমা ১৫ দিনে নামিয়ে আরও কড়া নজরদারি শুরু করল কেন্দ্র।
কেন বাড়ছে চিনির দাম?
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। খরা ও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে কিছু এলাকায় আখ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়ায় চিনির জন্য উপলব্ধ কাঁচামালের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
এর জেরে বাজারে চিনির সরবরাহে প্রভাব পড়েছে এবং গত এক মাসে খুচরো ও পাইকারি বাজারে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
শুল্কমুক্ত কাঁচা চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত
শুধু মজুতসীমা কমানো নয়, বাজারে সরবরাহ বাড়াতেও পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। প্রায় এক দশক পর প্রথমবার ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই অনুমতি আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বিদেশ থেকে কাঁচা চিনি আমদানি করে দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ানো গেলে উৎসবের মরশুমে দাম বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎসবের বাজারে নজরদারি
দুর্গাপুজো ও দীপাবলি-সহ একাধিক বড় উৎসব সামনে থাকায় আগামী কয়েক মাসে চিনির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বড় ক্রেতা বা ব্যবসায়ীরা যাতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চিনি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
কেন্দ্রের আশা, একদিকে মজুতসীমা কমানো এবং অন্যদিকে শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির ফলে বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য বজায় থাকবে। একইসঙ্গে মজুতদারি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের ওপর চিনির দাম বৃদ্ধির বাড়তি চাপ কিছুটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
