কোচবিহার জেলা আদালতে কর্মবিরতি, শূন্যপদে নিয়োগ-সহ একাধিক দাবিতে দুদিনের ধর্মঘট
শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, পদোন্নতি এবং ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সার্ভিস রুলস ২০১৫ সংশোধন-সহ একাধিক দাবিতে দুদিনের ধর্মঘটে আদালত কর্মীরা। কোচবিহার জেলা আদালতেও কর্মবিরতি।
শূন্যপদে নিয়োগ-সহ একাধিক দাবিতে দুদিনের ধর্মঘট, কোচবিহার জেলা আদালতেও কর্মবিরতিতে কর্মীরা
কোচবিহার, ডিস্ট্রিক্ট ডেস্ক : দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ এবং পদোন্নতি-সহ একাধিক দাবিতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আদালত কর্মীদের দুদিনের ধর্মঘট। সোমবার এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়ে কোচবিহারেও। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি কোচবিহার জেলা আদালত চত্বরেও কর্মীরা ধর্মঘট কর্মসূচিতে সামিল হন।
আদালত কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের একাধিক সমস্যা ও দাবি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানো হলেও প্রত্যাশিতভাবে তার সমাধান হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথে যেতে হয়েছে বলে কর্মীদের একাংশের বক্তব্য।

শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের দাবি
আদালত কর্মীদের অন্যতম প্রধান দাবি হল বিভিন্ন শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ করা। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পদ খালি থাকায় কর্মরত কর্মীদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী না থাকায় আদালতের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। শূন্যপদগুলি দ্রুত পূরণ করা হলে কাজের চাপ কমার পাশাপাশি আদালতের পরিষেবাও আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।
ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সার্ভিস রুলস নিয়ে দাবি
শূন্যপদে নিয়োগের পাশাপাশি ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সার্ভিস রুলস, ২০১৫-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও তা দ্রুত প্রকাশের দাবিও রয়েছে ধর্মঘটকারীদের। কর্মীদের বক্তব্য, তাঁদের চাকরি সংক্রান্ত নিয়ম ও পরিষেবা কাঠামোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে জটিলতা রয়েছে, তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট নিয়মের প্রয়োজনীয় সংশোধন ও প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি।
এই নিয়ম কার্যকর ও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলে আদালত কর্মীদের চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
সময়মতো পদোন্নতির দাবিও আন্দোলনের অন্যতম বিষয়
আদালত কর্মীদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময়ে পদোন্নতি। কর্মীদের অভিযোগ, যোগ্যতা ও চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো পদোন্নতি হয় না। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কাজ করতে হচ্ছে কর্মীদের।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রচলিত নিয়ম ও পরিষেবা কাঠামো মেনে যোগ্য কর্মীদের সময়মতো পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি চাকরি সংক্রান্ত অন্যান্য দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলিরও দ্রুত সমাধান করতে হবে।
কোচবিহার জেলা আদালতে কর্মীদের অংশগ্রহণ
সোমবার কোচবিহার জেলা আদালত চত্বরেও ধর্মঘট কর্মসূচিতে আদালত কর্মীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। নিজেদের দাবির সমর্থনে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র তাঁদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য আন্দোলন নয়। আদালতের কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামোর উন্নতি হলে বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজ আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
আন্দোলনে সমর্থন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের
আদালত কর্মীদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী সমিতি (WBMOA)। সংগঠনের সমর্থন আন্দোলনকারীদের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আন্দোলনকারীরা দ্রুত তাঁদের দাবিগুলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নিতে পারে।
দুদিনের কর্মসূচিতে নজর প্রশাসনের দিকে
দুদিনের ধর্মঘটের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা আদালতের প্রশাসনিক কাজকর্মে কতটা প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের দাবিগুলি নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আদালত কর্মীদের দাবি, শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সার্ভিস রুলস ২০১৫-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও প্রকাশ এবং নিয়ম মেনে সময়মতো পদোন্নতি-সহ তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
দীর্ঘদিনের দাবি ও বঞ্চনার অভিযোগকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে আদালত কর্মীদের দুদিনের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। কোচবিহার জেলা আদালতেও কর্মীদের অংশগ্রহণে আন্দোলনের চিত্র দেখা গেল। এখন তাঁদের দাবিগুলির বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর আন্দোলনকারী কর্মীদের।
