কোচবিহারে সুপারি ব্যবসায়ীর বাড়ি-ফ্ল্যাটে ED তল্লাশি, আন্তর্জাতিক পাচারের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে
কোচবিহারে সুপারি ব্যবসায়ী বিনয় বর্মনের বাড়ি ও ফ্ল্যাটে ED-র তল্লাশি। আন্তর্জাতিক সুপারি পাচারের অভিযোগের সূত্রে একাধিক জায়গায় অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য।
কোচবিহারে সুপারি ব্যবসায়ীর বাড়ি ও ফ্ল্যাটে ইডির তল্লাশি

কোচবিহার, ১ অক্টোবর, লোকাল ডেস্ক ৮ : সুপারি ব্যবসাকে ঘিরে তদন্তের সূত্রে কোচবিহারে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই জেলার একাধিক জায়গায় সুপারি ব্যবসায়ী বিনয় বর্মনের বাড়ি ও সম্পত্তিতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সুপারি পাচারের অভিযোগের সূত্র ধরেই এই অভিযান বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অসম-বাংলা সীমান্তবর্তী ভানুকুমারী-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের জোড়াই মোড় এলাকায় বিনয় বর্মনের বাসভবনে ভোর প্রায় ৪টে থেকে ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি শুরু করেন। পাশাপাশি কোচবিহার শহরে তাঁর একটি ফ্ল্যাটেও তদন্তকারী দলের তল্লাশি চালানোর খবর পাওয়া গিয়েছে। ফলে তুফানগঞ্জ থেকে কোচবিহার শহর—একাধিক জায়গায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সুপারি ব্যবসার যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল
জানা গিয়েছে, বিনয় বর্মন দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়িক লেনদেন এবং সুপারি পরিবহণ ও পাচারের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলি তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্তরে সুপারি পাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই তল্লাশি বলে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
তল্লাশি অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট বাড়ি ও ফ্ল্যাটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের আধিকারিকরা বিভিন্ন নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে অভিযানে এখনও পর্যন্ত ঠিক কী কী নথি বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য
একই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা যাওয়া তুফানগঞ্জের বাড়ি এবং কোচবিহার শহরের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানোর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে ঠিক কোন মামলার সূত্রে এই তল্লাশি, তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং বিনয় বর্মনের ব্যবসায়িক লেনদেনের কোন কোন দিক ইডির নজরে রয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযানের কারণ ও তল্লাশিতে পাওয়া তথ্য নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
এদিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযানকে ঘিরে কোচবিহার জেলার সুপারি ব্যবসা ও সীমান্তবর্তী বাণিজ্যিক কার্যকলাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই অভিযানের নেপথ্যে থাকা কারণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, তল্লাশি অভিযান কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমান নয়। ইডির তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পরবর্তী সময়ে সংস্থার তরফে কী জানানো হয়, তার দিকেই এখন নজর রয়েছে।
