বকেয়া DA মেটাতে ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বড় বৈঠক, ইন্দু মালহোত্রা কমিটির উদ্যোগ
বকেয়া DA নিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইন্দু মালহোত্রা কমিটির উদ্যোগে ২০০৮-২০১৯ সালের পাওনা, হিসাব ও কিস্তিতে পরিশোধ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বকেয়া ডিএ মেটাতে ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বড় বৈঠক সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইন্দু মালহোত্রা কমিটির উদ্যোগে

নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ৬ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দিল্লিতে বসতে চলেছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটির উদ্যোগে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বকেয়া ডিএ-র হিসাব, কর্মচারীদের পাওনা নির্ধারণ এবং সেই অর্থ কীভাবে ও কত কিস্তিতে মেটানো হবে—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকে আলোচনার টেবিলে উঠতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ-র অপেক্ষায় থাকা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এই বৈঠক ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
১২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় বৈঠক
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার বিকেল ৫টায় দিল্লিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ডিএ-সংক্রান্ত জটিলতা মেটানোর পথ খোঁজা হবে।
এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সরকারি কর্মচারী মহলের একাংশ। কারণ, বহু বছর ধরে বকেয়া ডিএ নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর এবার সেই বকেয়া অর্থের হিসাব ও পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি আলোচনা হতে চলেছে।
বৈঠকে থাকবেন ১০ জন কর্মচারী প্রতিনিধি
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে মোট ১০ জন প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরাও আলোচনায় অংশ নেবেন।
ফলে বৈঠকে শুধু প্রশাসনিক পর্যায়ের আলোচনা নয়, আদালতে চলা মামলার আইনি দিক এবং কর্মচারীদের দাবির বাস্তব পরিস্থিতিও উঠে আসতে পারে। দীর্ঘদিনের জটিলতা কীভাবে আইনি ও প্রশাসনিকভাবে মেটানো যায়, সেই বিষয়েই মূলত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০০৮ থেকে ২০১৯—বকেয়া ডিএ-র হিসাবই বড় প্রশ্ন
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা। ওই সময়কালের কর্মচারীদের পাওনা কীভাবে হিসাব করা হবে, কত টাকা বকেয়া রয়েছে এবং সেই অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কী পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে—তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
বকেয়া অর্থের পরিমাণ নির্ধারণের পাশাপাশি কর্মচারীদের মধ্যে তা কীভাবে বিতরণ করা হবে, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এককালীন অর্থপ্রদান সম্ভব না হলে কিস্তিতে টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের কাঠামো তৈরি করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
কিস্তিতে টাকা দেওয়া নিয়ে জটিলতা কাটানোর চেষ্টা
বকেয়া ডিএ পরিশোধের ক্ষেত্রে কিস্তির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। কর্মচারীদের পাওনা একবারে মেটানো হবে, নাকি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাধিক কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হবে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে এই কিস্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। কর্মচারীদের স্বার্থ এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় করে কোনও গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করার চেষ্টা হতে পারে।
কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমনের পথ খোঁজা হবে
বকেয়া ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। কর্মচারী সংগঠনগুলির তরফে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইন্দু মালহোত্রা কমিটির উদ্যোগে বৈঠক হওয়ায় সেই ক্ষোভের সুরাহার একটি প্রাতিষ্ঠানিক পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে বৈঠকের পর ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, সেদিকেই এখন নজর কর্মচারী মহলের।
বৈঠক ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা
১২ সেপ্টেম্বরের বৈঠক তাই শুধু একটি প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহুদিনের বকেয়া ডিএ-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ-র হিসাব, পাওনা মেটানোর পদ্ধতি, কিস্তির কাঠামো এবং কর্মচারীদের ক্ষোভের সুরাহা—এই চারটি বিষয়ই বৈঠকের মূল কেন্দ্রে থাকতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, দিল্লির এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে শেষ পর্যন্ত কী সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে এবং বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হয় কি না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকেই ডিএ-জট কাটার পথে বড় কোনও অগ্রগতি হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কর্মচারী মহল।
