দিল্লির আস্থা কুঞ্জ পার্কে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ৩
জন্মদিনে বন্ধুর সঙ্গে দিল্লির আস্থা কুঞ্জ পার্কে যাওয়া ১৭ বছরের নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেওয়া তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার।
জন্মদিনের সন্ধ্যাই ভয়াবহ! দিল্লির পার্কে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, FIR-এ উঠে এল আতঙ্কের বয়ান
সিটি নিউজ বাংলা | ন্যাশনাল ডেস্ক
জন্মদিন উপলক্ষে বন্ধুর সঙ্গে মন্দিরে গিয়েছিল ১৭ বছরের এক কিশোরী। এরপর দিল্লির আস্থা কুঞ্জ পার্কে যাওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ। পুলিশে দেওয়া বয়ানে ওই কিশোরী দাবি করেছে, তিন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে তাকে ও তার বন্ধুকে ভয় দেখান। পরে অস্ত্র দেখিয়ে তাকে পার্কের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে একাধিক বার যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।

মন্দির থেকে পার্কে, তারপরই বদলে যায় পরিস্থিতি
FIR-এ দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, জন্মদিনে ওই কিশোরী এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে বিকেল ৫টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। প্রায় পৌনে ৬টা নাগাদ তারা কালকাজি মন্দিরে পৌঁছয়। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর তারা ইসকনের মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে।
এর আগে কালকাজি মেট্রো স্টেশনের কাছে চিপস ও জল কেনে দু’জনে। পরে আস্থা কুঞ্জ পার্কের ৭ নম্বর গেট দিয়ে ভিতরে ঢোকে। পার্কের একটি বেঞ্চে বসে খাবার খাওয়ার সময়ই তিন ব্যক্তি তাদের কাছে আসে বলে অভিযোগ।
পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ
কিশোরীর অভিযোগ, তিন ব্যক্তি প্রথমে তার বন্ধুকে ধরে চড় মারেন এবং নিজেদের পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দেন। পার্কে কেন এসেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করার পাশাপাশি তাঁদের কাছে পরিচয়পত্রও চাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এরপর ওই যুবককে এক দিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দু’জনের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী, সে মায়ের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করলে অভিযুক্তদের একজন অন্যজনকে অস্ত্র বের করার নির্দেশ দেয়। এরপর একটি কালো রঙের আগ্নেয়াস্ত্র দেখানো হয় বলে তার দাবি।
ছুরি দেখিয়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
FIR-এ কিশোরী দাবি করেছে, আগ্নেয়াস্ত্র দেখানোর পর অভিযুক্তরা ছুরি বের করে তাকে পার্কের অন্ধকার ও নির্জন অংশে নিয়ে যায়। সেখানে ছুরি গলায় ঠেকিয়ে এক অভিযুক্ত তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
এরপর অন্য দুই অভিযুক্তও পার্কের আলাদা জায়গায় তাকে যৌন নির্যাতন করে বলে পুলিশে দেওয়া বয়ানে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্তরা একে অপরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করছিলেন এবং নির্দিষ্ট জায়গায় একে অপরকে ডেকে নিচ্ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর পুলিশে খবর
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা কিশোরী ও তার বন্ধুর মোবাইল ফোন ফেরত দেয় এবং দু’জনকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। পরে কিশোরী তার বন্ধুকে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর বন্ধুর ফোন থেকে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে CCTV ফুটেজ, স্থানীয় তথ্য এবং কিশোরীর দেওয়া বর্ণনা কাজে লাগানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তিন অভিযুক্তই গ্রেফতার
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ের ঘটনা ঘটে বলে আগের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অন্য দু’জনকেও গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় মামলা এবং POCSO আইনের ধারায় মামলা করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। কিশোরীর অভিযোগ ও FIR-এ উঠে আসা তথ্য তদন্তের অংশ; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
