ধ্রুব রাঠীর মুক্তি, আটককে ‘অপহরণ’ বলে বিস্ফোরক অভিযোগ
গভীর রাতে মুক্তি ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর! আটককে ‘অপহরণ’ বলে অভিযোগ, ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে নাগরিকত্ব বিতর্কের জবাব দিলেন বলে দাবি।
গভীর রাতে মুক্তি ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর!

আটককে ‘অপহরণ’ বলে বিস্ফোরক অভিযোগ, ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে দিলেন জবাব
সিটি নিউজ বাংলা, ১১ অক্টোবর, ন্যাশনাল ডেস্ক ১০: বিশিষ্ট ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এ তাঁর বাসভবন থেকে আটক করার পর রবিবার গভীর রাতে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ১৮ ঘণ্টা গুরুগ্রাম ক্রাইম ব্রাঞ্চের হেফাজতে থাকার পর কোনও মামলা বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন না করেই তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুক্তি পাওয়ার পর একটি ভিডিও বার্তায় নিজের আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ধ্রুব। পাশাপাশি, তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাব দিতে ক্যামেরার সামনে ভারতীয় পাসপোর্টও দেখিয়েছেন তিনি।
কেন আটক করা হয়েছিল ধ্রুব রাঠীকে?
প্রদত্ত বিবরণ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত জটিলতা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতা ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এ ধ্রুব রাঠীর বাসভবনে পৌঁছয় গুরুগ্রাম ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও দিল্লি পুলিশের একটি যৌথ দল। বিক্ষোভে যোগ দেওয়া থেকে তাঁকে বিরত রাখতেই প্রতিরোধমূলকভাবে আটক করা হয়েছিল বলে বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এই আটককে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোনও ব্যক্তিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে কী আইনি ভিত্তিতে আটক করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও প্রয়োজন।
প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর গভীর রাতে মুক্তি
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ ঘণ্টা হেফাজতে থাকার পর রবিবার রাত ২টো থেকে ৩টের মধ্যে ধ্রুব রাঠীকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি বা কোনও অভিযোগ গঠন করা হয়নি বলেও বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে মুক্তি পেলেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনি ফের যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে আবার আটক করা হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে—এমন দাবিও সামনে এসেছে।
যদিও আটক, মুক্তি এবং পুলিশের বক্তব্য সংক্রান্ত এই তথ্যগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
মুক্তির পরেই ‘অপহরণ’-এর অভিযোগ
মুক্তি পাওয়ার পর একটি ভিডিও বার্তায় ধ্রুব রাঠী তাঁর আটকের ঘটনাকে সরাসরি ‘কিডন্যাপ’ বা অপহরণ বলে অভিহিত করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
একজন পরিচিত ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাকে তাঁর বাসভবন থেকে আটক করা এবং পরে মুক্তি দেওয়ার ঘটনাটি নাগরিক অধিকার, প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার স্বাধীনতা এবং পুলিশের ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে ধ্রুব রাঠীর বক্তব্য তাঁর নিজের অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত। ঘটনাটি অপহরণ ছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও আইনি প্রেক্ষাপট প্রয়োজন।
নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কের জবাব পাসপোর্ট দেখিয়ে?
এই ঘটনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল ধ্রুব রাঠীর নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা বিতর্ক। প্রদত্ত বিবরণ অনুযায়ী, মূলধারার সংবাদমাধ্যমের একাংশে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। এর জবাবে ভিডিও বার্তায় ক্যামেরার সামনে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে তিনি ভারতের নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নিয়মিত মতামত প্রকাশ করেন ধ্রুব রাঠী। ফলে তাঁকে ঘিরে কোনও বিতর্ক তৈরি হলে তা দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কোনও দাবি যাচাই করতে নির্ভরযোগ্য নথি ও প্রামাণ্য তথ্যের উপর নির্ভর করাই যুক্তিযুক্ত।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
ধ্রুব রাঠীকে ঘিরে এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোয়, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরোধমূলক আটক করা যায়, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অধিকার কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং পুলিশের পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি কী ছিল।
একই সঙ্গে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কিংবা তাঁকে আটক করা হলে, যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ পরিবেশন করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য, পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং আইনি নথি সামনে এলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ধ্রুব রাঠীকে আটক ও মুক্তি দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
