এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে ১১৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে ভারত, শতরান শেফালির
এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর মহিলা টি-২০ সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ১১৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে ভারত। ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০ শেফালি বর্মার।
বাংলাদেশকে ১১৪ রানে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ভারত, ব্যাট হাতে ইতিহাস শেফালির
সিটি নিউজ বাংলা, স্পোর্টস ডেস্ক ২ :
এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর মহিলা টি-২০ ক্রিকেটে দাপুটে জয় ভারতের। সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ১১৪ রানে হারিয়ে সোজা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। ব্যাট হাতে শেফালি বর্মার ঝড়ো শতরান এবং বল হাতে ভারতীয় বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে একতরফা হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেমিফাইনাল। এই জয়ের ফলে অন্তত রুপোর পদক নিশ্চিত করেছে ভারত।

২০ সেপ্টেম্বর জাপানের নিসশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের উপর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন ভারতের দুই ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা। মাত্র ছয় ওভারের পাওয়ারপ্লেতেই ভারত তুলে নেয় ৭২ রান।
মন্ধানা মাত্র ১৯ বলে ৩৭ রান করে ভারতকে দ্রুত রান তোলার ভিত তৈরি করে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও বড় শট। তবে এই ইনিংসের গুরুত্ব শুধু দলের স্কোর বাড়ানোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ৩৭ রান করার পথে স্মৃতি মন্ধানা মহিলা টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের আসনে উঠে আসেন। তিনি নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে টপকে এই নজির গড়েন।
মন্ধানা ফিরে যাওয়ার পরেও থামেননি শেফালি। বাংলাদেশের বোলারদের উপর চাপ বাড়িয়ে একের পর এক ছক্কা হাঁকাতে থাকেন তিনি। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ভারতীয় ওপেনার। এরপর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে তাঁর ব্যাট। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪৯ বলে নিজের শতরান পূর্ণ করেন শেফালি। তাঁর অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার এবং ৯টি ছক্কা।
শেফালির এই শতরান এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইতিহাসেও বিশেষ নজির তৈরি করে। তিনি এশিয়ান গেমসের মহিলা ক্রিকেটে প্রথম শতরানকারী ব্যাটার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। একই সঙ্গে এটি ছিল তাঁর প্রথম টি-২০ আন্তর্জাতিক শতরান।
শেফালির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। দু’জনে মাত্র ৫৫ বলে ৯৪ রান যোগ করেন। হরমনপ্রীত ৩৩ বলে ৪০ রান করেন। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান তোলে ভারত। বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৬ রান।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে বাংলাদেশ
১৯৬ রানের কঠিন লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ। ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন। দ্বিতীয় ওভারেই নন্দিনী শর্মা জুয়াইরিয়া ফেরদৌসকে ফিরিয়ে দেন। এরপর ক্রান্তি গৌড় ও শ্রী চরণী গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের রান তোলার গতি আটকে দেন।
পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রানে পৌঁছে যায়। এরপরও পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি তারা। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় বড় জুটি তৈরি করার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন দিলারা আক্তার। তিনি ২৩ বলে ২৭ রান করেন। কিন্তু ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে তাঁর ইনিংসও বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।
বল হাতেও ভারতের দাপট
ভারতের বোলিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন নন্দিনী শর্মা ও দীপ্তি শর্মা। নন্দিনী ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা দেন। দীপ্তি শর্মাও মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন। শ্রী চরণী পান ২টি উইকেট। এছাড়াও ক্রান্তি গৌড় ও শ্রেয়াঙ্কা পাটিল একটি করে উইকেট নেন।
ফলে ব্যাটিংয়ে ১৯৫ রান করার পর বোলিংয়েও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ভারত। ১১৪ রানের জয় শুধু ফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, ভারতীয় দলের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ছবিটিও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ফাইনালে ভারতের সামনে শ্রীলঙ্কা
বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছনোর পর এবার ভারতের সামনে শ্রীলঙ্কা। অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ফলে এশিয়ান গেমসের মহিলা টি-২০ ক্রিকেটে সোনার পদকের জন্য মুখোমুখি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২২ সেপ্টেম্বর।
এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ভারতের ক্রিকেট অভিযান ইতিমধ্যেই পদক নিশ্চিত করেছে। তবে ভারতীয় দলের লক্ষ্য এখন একটাই—রুপো নয়, সোনার পদক। আর সেই লক্ষ্যে ফাইনালের আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে শেফালি বর্মার ঐতিহাসিক শতরান এবং বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভারতকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে।
