জলদাপাড়ায় ‘পর্যটন হাট’, সোনাঝুরি হাটের আদলে ডুয়ার্সে নতুন পর্যটন আকর্ষণ
বিশ্ব পর্যটন দিবসে জলদাপাড়ায় চালু হল ‘পর্যটন হাট’। রাভা-টোটো সংস্কৃতি, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার ও গ্রামীণ পণ্য নিয়ে ডুয়ার্সের পর্যটনে নতুন উদ্যোগ।
শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের আদলে জলদাপাড়ায় ‘পর্যটন হাট’, লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ পণ্যের নতুন ঠিকানা
সিটি নিউজ বাংলা | উত্তরবঙ্গ ডেস্ক
আলিপুরদুয়ার, ২৭ সেপ্টেম্বর: শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের আদলে এবার ডুয়ার্সের পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত হল নতুন আকর্ষণ। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়ায় চালু হল ‘জলদাপাড়া পর্যটন হাট’। ডুয়ার্সের লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য, হস্তশিল্প এবং স্থানীয় গ্রামীণ পণ্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

জলদাপাড়া ঘুরতে আসা পর্যটকদের স্থানীয় জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানোর পাশাপাশি শিল্পী, কারিগর এবং গ্রামীণ উৎপাদকদের তৈরি সামগ্রী বিক্রির সুযোগ করে দেবে এই হাট। ফলে পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির যোগ আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
হাটে মিলবে স্থানীয় পণ্য ও ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন
জলদাপাড়া পর্যটন হাটে তোর্সা নদীর বৈরালি মাছ, রাভা সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি হ্যান্ডলুম শাড়ি, স্থানীয় মধু, নুনিয়া চাল-সহ বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি রাভা ও টোটো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত সামগ্রী এবং হাতে তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জামও পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
স্থানীয় শিল্পী ও কারিগরদের তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রীও এই হাটে রাখা হবে। ফলে জঙ্গল, নদী ও বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি ডুয়ার্সের মানুষের সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা ও সৃজনশীলতার সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা।
পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় জীবিকার যোগ
এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হল পর্যটনের সুফল স্থানীয় মানুষের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়া। পর্যটকদের কাছে স্থানীয় পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে শিল্পী, কারিগর ও গ্রামীণ উৎপাদকদের আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
ডুয়ার্সের পর্যটনকে শুধুমাত্র জঙ্গল ও বন্যপ্রাণীকেন্দ্রিক না রেখে লোকসংস্কৃতি, স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রাকেও পর্যটনের অংশ হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই হাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘নতুন কিছু করার প্রত্যাশা রয়েছে’, বললেন EDTDA-র সাধারণ সম্পাদক
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে Eastern Dooars Tourism Development Association (EDTDA)-এর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, “দীর্ঘ সময় পর আমরা আলিপুরদুয়ার জেলায় একজন সক্রিয় জেলা শাসক পেয়েছি। জেলা শাসক ময়ূরী বসু, IAS-এর সক্রিয়তা ও নেতৃত্ব বিভিন্ন ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে আগামী দিনে পর্যটন ও সংরক্ষণ ক্ষেত্রে আলিপুরদুয়ারে আরও নতুন এবং ভিন্নধর্মী কাজ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
তিনি বলেন, “বিশ্ব পর্যটন দিবসের শুভ দিনে জলদাপাড়া পর্যটন হাটের উদ্বোধন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। ডুয়ার্সের স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, হস্তশিল্প এবং মানুষের সঙ্গে পর্যটনকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।”
জেলা শাসক ময়ূরী বসুর উদ্যোগ ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশ্বজিৎ সাহা আরও বলেন, “আমাদের অঞ্চলের পর্যটন ও সংরক্ষণ ক্ষেত্রের উন্নয়নে তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা ও অবদানের জন্য আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।”
ডুয়ার্সের পর্যটনে নতুন মাত্রার সম্ভাবনা
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণীর আকর্ষণের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি ও পণ্যকে যুক্ত করার এই উদ্যোগ ডুয়ার্সের পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। পর্যটকেরা জঙ্গল সাফারি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের তৈরি খাবার, পোশাক ও হস্তশিল্প কেনার সুযোগ পেলে পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল স্থানীয় স্তরে আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব পর্যটন দিবসে জলদাপাড়ায় ‘পর্যটন হাট’-এর সূচনা তাই শুধু একটি নতুন বাজার চালুর ঘটনা নয়। প্রকৃতি, লোকসংস্কৃতি, স্থানীয় ঐতিহ্য এবং মানুষের জীবিকার সঙ্গে পর্যটনকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার একটি উদ্যোগ হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
