মমতার মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় আইনি নোটিশ, SSKM-সহ স্বাস্থ্য দপ্তরকে কড়া বার্তা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসা নিয়ে আইনি নোটিশ। SSKM, বাঙুর নিউরোসায়েন্স ও স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে রিপোর্টের সত্যতা ও তথ্য ফাঁসের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
মমতার মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসা নিয়ে আইনি নোটিশ! SSKM-সহ স্বাস্থ্য দপ্তরকে কড়া বার্তা

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৮ : প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আসাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক। রোগীর অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মেডিকেল রিপোর্ট কীভাবে প্রকাশ্যে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এসএসকেএম হাসপাতাল, বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অর্ক নাগের মাধ্যমে পাঠানো ওই নোটিশে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকাশ্যে আসা রিপোর্টটি আদৌ আসল কি না, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
নন্দীগ্রামের পুরনো চোট ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর পায়ে গুরুতর চোট লাগার ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
সম্প্রতি ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ১১ মার্চ ২০২১ সালের একটি মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দেয়। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই রিপোর্ট সামনে এনে দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙার প্রমাণ ছিল না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে পুরনো চিকিৎসা নথি প্রকাশ্যে আসার ঘটনাটি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনি প্রশ্নেরও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
রোগীর অনুমতি ছাড়া মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশের অভিযোগ
আইনি নোটিশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর পক্ষ থেকে মূলত রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কোনও রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্যের অন্তর্ভুক্ত। সেই তথ্য রোগীর অনুমতি ছাড়া কীভাবে সংবাদমাধ্যম বা অন্য কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে পৌঁছল, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, যদি সংশ্লিষ্ট মেডিকেল রিপোর্টটি সত্যিই হাসপাতালের নথি থেকে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে বাইরে গেল এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ্যে এল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
হাসপাতাল কর্তাদের কাছেও জবাব চাওয়া হয়েছে
এই ঘটনায় এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা চিকিৎসক মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়, এমএসভিপি চিকিৎসক পীযূষকুমার রায় এবং বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের নিউরোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক অতনু বিশ্বাসের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও নোটিশের একটি কপি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, রিপোর্টটি সত্যি হলে রোগীর অনুমতি ছাড়া সেটি প্রকাশ্যে আসার পিছনে কারা দায়ী।
‘মেডিকেল গোপনীয়তা’ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
আইনি নোটিশে রোগীর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার অধিকার এবং ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১-এর গোপনীয়তার অধিকার-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, কোনও ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি তাঁর অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা হলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
তাই রিপোর্টটি যদি আসল হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থার বাইরে গেল, সেই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
রিপোর্ট আসল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন
শুধু গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগই নয়, প্রকাশ্যে আসা মেডিকেল রিপোর্টের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। রিপোর্টটি আসল নাকি অন্য কোনওভাবে তৈরি বা পরিবর্তিত নথি, তা যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
রিপোর্টটি সত্যি হলে তার উৎস, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রকাশ্যে আসার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কোনও আধিকারিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়ম ভেঙে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি চিকিৎসক মহলেও চর্চা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো চোটের চিকিৎসা রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম পর্বে তাঁর চোটের প্রকৃতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত নথি প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসা মহলেও গোপনীয়তা ও পেশাগত দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফলে নন্দীগ্রামের পুরনো চোটকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে রিপোর্টের সত্যতা ও চোটের প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে রোগীর ব্যক্তিগত মেডিকেল নথি কীভাবে বাইরে এল—এই দুই বিষয় নিয়েই আগামী দিনে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।
