মোদি-পারমেলিন বৈঠকে ভারত-সুইজারল্যান্ড অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা। TEPA-র আওতায় ১৫ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য।
মোদি-পারমেলিন বৈঠকে বড় অর্থনৈতিক বার্তা! ১৫ বছরে ভারতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

নয়াদিল্লি, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ১৩ : ভারত ও সুইজারল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সুইস প্রেসিডেন্টের ভারত সফর এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত-ইএফটিএ (EFTA) ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা TEPA কার্যকর হওয়ার এক বছর পূর্ণ করছে। সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং লিশটেনস্টাইন নিয়ে গঠিত EFTA-র সঙ্গে ভারতের এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
💰 ১৫ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য
বৈঠকের অন্যতম বড় বিষয় ছিল ভারতে সুইস বিনিয়োগ বাড়ানো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, TEPA-র মাধ্যমে আগামী ১৫ বছরে ভারতে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, TEPA শুধুমাত্র বাণিজ্য বাড়ানোর চুক্তি নয়; এটি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো হিসেবেও কাজ করবে।
📈 ভারতীয় পণ্যের জন্য সুইস বাজারে বাড়বে সুযোগ
দুই দেশের আলোচনায় ভারতীয় পণ্যের জন্য সুইজারল্যান্ডের বাজারে আরও বেশি সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য, ওষুধ বা ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রফতানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
একইসঙ্গে সুইস সংস্থাগুলির জন্য ভারতে বিনিয়োগের সুযোগ আরও সহজ করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
🧬 বায়োটেক থেকে ব্যাংকিং—একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের নজর
ভারতে সুইস বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর উঠে এসেছে। বায়োটেকনোলজি, লাইফ সায়েন্সেস, ব্যাংকিং, বিমা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং স্থায়িত্বমূলক প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও উদ্ভাবন, উন্নত প্রযুক্তি, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
🎓 ভারতীয় পড়ুয়া ও পেশাদারদের জন্য নতুন সুযোগ
বৈঠকে মোবিলিটি ও মাইগ্রেশন সহযোগিতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে মোবিলিটি সংক্রান্ত চুক্তি ও সহযোগিতা ভারতীয় শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী এবং পেশাদারদের জন্য সুইজারল্যান্ডে নতুন সুযোগ তৈরির পথ প্রশস্ত করতে পারে। শিক্ষা, দক্ষতা, গবেষণা এবং প্রতিভার আদানপ্রদান বাড়ানোর বিষয়টিও দুই পক্ষের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
🤝 TEPA-কে ঘিরে নতুন গতি ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কে
ভারত ও EFTA-র মধ্যে TEPA গত বছর কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বৈঠকের পর বলেন, ভারত-সুইজারল্যান্ডের সম্পর্কের ভিত্তি দীর্ঘদিনের হলেও বর্তমানে উদ্ভাবন, পরিকাঠামো এবং উন্নত প্রযুক্তি এই অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের ভারত সফরও সেই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও গভীর করার বার্তা দিচ্ছে। তাঁর সফরে সুইস ব্যবসায়ী ও শিক্ষাক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।
সব মিলিয়ে, মোদি-পারমেলিন বৈঠকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান, ভারতীয় রফতানি বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা এবং মানুষের যাতায়াতের সুযোগ সম্প্রসারণ—এই বিষয়গুলিই ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের আগামী দিনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে।
