নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে নবান্নে সঞ্চিতা, শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। সাক্ষাতের পরেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন তিনি।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে নবান্নে সঞ্চিতা প্রধান দে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা মমতা-শিবিরের প্রার্থীর, ‘আশীর্বাদ নিতে এসেছিলাম’—সঞ্চিতা

কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন নন্দীগ্রাম আসনে মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। শুক্রবার তাঁর এই সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সঞ্চিতা প্রধান দে জানিয়েছেন, তিনি আশীর্বাদ নিতে এসেছিলেন। তবে উপনির্বাচনের আগে তাঁর এই সাক্ষাতের সময়কালই রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে। কারণ, আগামীকাল অর্থাৎ ১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ফলে তার আগে নবান্নে প্রার্থীর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নন্দীগ্রামে দ্বিমুখী তৃণমূলের লড়াই, তারপর নয়া সমীকরণ
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ প্রতীক-সংক্রান্ত জটিলতাও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কালীঘাট-তৃণমূলের তরফে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করা হয়েছিল। অন্যদিকে ঋতব্রত-তৃণমূলের তরফেও একই আসনে প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। দুই পক্ষই তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীকের দাবি করায় নির্বাচন কমিশনের সামনে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
১৬ সেপ্টেম্বর ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। পরদিন, ১৭ সেপ্টেম্বর স্ক্রুটিনি পর্বেও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ফলে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের কোন শিবির প্রার্থী হিসেবে লড়বে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
উপনির্বাচনের আগে কেন গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চিতার নবান্ন-সফর?
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে একজন প্রার্থীর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সাধারণ ঘটনা হলেও, নন্দীগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই সাক্ষাৎ আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের ঠিক আগে এই সাক্ষাৎ হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—প্রার্থী হিসেবে সঞ্চিতার অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসছে কি না, কিংবা নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না।
তবে এই বিষয়ে সঞ্চিতা প্রধান দে বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনও পরিবর্তনের ঘোষণা প্রকাশ্যে আসেনি। সঞ্চিতার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিতেই নবান্নে গিয়েছিলেন। তাই সাক্ষাৎকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনার কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো সরকারি ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন
নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ উপনির্বাচন হওয়ার কথা। একই দিনে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রেও উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নন্দীগ্রাম আসনটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে দেওয়ার পর সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন। ফলে নন্দীগ্রাম ফের রাজ্যের অন্যতম নজরকাড়া রাজনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
প্রতীক-জট থেকে প্রার্থী-সাক্ষাৎ—ক্রমেই বাড়ছে উত্তাপ
নন্দীগ্রামে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে জটিলতা, দুই শিবিরের প্রার্থী, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং এবার নবান্নে সঞ্চিতা প্রধান দে-র মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ—পরপর ঘটনাপ্রবাহে উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
এখন নজর থাকবে ১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনও পরিবর্তন হয় কি না, এবং শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ময়দানে কোন কোন প্রার্থী থাকছেন, তার দিকে।
সূত্র: প্রকাশ্য নির্বাচনী তথ্য
