নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছর পূর্ণ, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর বার্তা
নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক ও জনসেবার জীবনে ২৫ বছর পূর্ণ। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ নরেন্দ্র মোদীর: ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে নতুন বার্তা

নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ১০ : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক ও জনসেবার জীবনে পূর্ণ হল ২৫ বছর। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে যে প্রশাসনিক যাত্রার সূচনা, তা পরবর্তীতে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পথচলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদী। এরপর প্রায় ১৩ বছর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সেই পদে রয়েছেন মোদী। ফলে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী—দুই পর্যায় মিলিয়ে তাঁর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।
২৫ বছরের যাত্রা ঘিরে বিশেষ অনুষ্ঠান
এই বিশেষ উপলক্ষে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত হয় ‘সেবা জ্যোতি’ তথা ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক যাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনের ভারতের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত ও আত্মনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর বার্তা
২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা। তাঁর বার্তা—দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিকশিত ভারত ২০৪৭, আমরা এটি করব।” এই বার্তাকেই সামনে রেখে আগামী দিনের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উপর জোর দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছরের প্রশাসনিক ও জনসেবার যাত্রা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকেও তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলাকে স্বীকৃতি দিয়ে মন্ত্রিসভায় একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস করা হয়।
প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তুলে ধরে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এই উপলক্ষে বিজেপির সাংগঠনিক স্তরেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
গুজরাট থেকে দিল্লি—২৫ বছরের দীর্ঘ পথচলা
নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের সূচনা হয় গুজরাট থেকে। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রায় ১৩ বছর রাজ্যের প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৪ সালে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর বড় পরিবর্তন আসে, যখন তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
এরপর ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার এবং ২০২৪ সালে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ফলে রাজ্য প্রশাসন থেকে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচিত প্রশাসনিক পদ পর্যন্ত তাঁর যাত্রা ২৫ বছরের একটি দীর্ঘ সময়কে অতিক্রম করেছে।
এই ২৫ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে বিজেপির তরফে ‘সেবা ও সমর্পণ’-এর বার্তা সামনে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচি, সভা এবং জনসংযোগমূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ সময়কে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
আগামী দিনের লক্ষ্য ২০৪৭
২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রার পর এবার সামনে ২০৪৭ সালের লক্ষ্য। স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারতকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য কেন্দ্রের তরফে সামনে রাখা হয়েছে, সেই ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ কর্মসূচিকেই ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ফলে নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি শুধু অতীতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পথচলার স্মরণ নয়, আগামী কয়েক দশকের জন্য দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।
