পশ্চিমবঙ্গের ৫ জায়গায় NIA তল্লাশি, IMK-র জঙ্গি নেটওয়ার্কের খোঁজে অভিযান
পশ্চিমবঙ্গের ৫ জায়গায় NIA-র তল্লাশি। JMB-র শাখা সংগঠন IMK-র কথিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক ও স্লিপার সেলের খোঁজে পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও কেরালায় ১৬টি স্থানে অভিযান।
পশ্চিমবঙ্গের ৫ জায়গায় NIA-র চিরুনি তল্লাশি, জঙ্গি স্লিপার সেলের খোঁজে অভিযান

কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বর, স্টেট ডেস্ক ৪ : আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি ষড়যন্ত্রের তদন্তে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর শাখা সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদ উর কাফিলা’ (IMK)। NIA-র তদন্ত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির নেটওয়ার্ক ও উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ জায়গায় অভিযান
NIA সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মোট পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—
দক্ষিণ দিনাজপুর: হরিরামপুর ও বংশীহারি
পূর্ব বর্ধমান: মঙ্গলকোট
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ডায়মন্ড হারবার ও কুলপি
একই মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম ও কেরালাতেও তল্লাশি চলছে। সব মিলিয়ে দেশের ১৬টি স্থানে মঙ্গলবার অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে অসমে ১০টি, পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটি এবং কেরালায় একটি জায়গা রয়েছে।
কী কারণে এত বড় অভিযান?
NIA-র তদন্তের মূল লক্ষ্য হল IMK-র কথিত সংগঠন বিস্তার, সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত করা এবং গোপন নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য খুঁজে বের করা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনটির যোগাযোগ ও কার্যকলাপের বিষয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কিছু যুবককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। অসমে এই মামলার সূত্র ধরে একজনকে গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্য ও ডিজিটাল উপাদান থেকেই পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জায়গার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র মিলেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার তরফে আগেই জানানো হয়েছিল।
ডিজিটাল নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসে নজর
মঙ্গলবারের অভিযানে বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস, নথিপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মধ্যে কোনও সাংগঠনিক যোগাযোগ, অর্থের লেনদেন, অনলাইন যোগাযোগ কিংবা সম্ভাব্য মডিউল তৈরির পরিকল্পনার প্রমাণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা।
NIA-র জুন ২০২৬-এর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও JMB-র একটি শাখা সংগঠনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে কেন্দ্রীভূত জঙ্গি ষড়যন্ত্রের মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের কথা জানানো হয়েছিল।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ কী?
মঙ্গলবারের তল্লাশি থেকে কী কী তথ্য বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল উপাদান বিশ্লেষণের পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
একই মামলায় দেশের তিন রাজ্যে একযোগে ১৬টি জায়গায় অভিযান চালানোয় তদন্তের পরিধি যে যথেষ্ট বিস্তৃত, তা স্পষ্ট। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ এবং কথিত স্লিপার নেটওয়ার্কের বিষয়ে NIA-র তদন্তে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
