স্কুল চলাকালীন ‘প্রশস্ত’ পোর্টালে প্রশিক্ষণ, পঠনপাঠন ব্যাহত না করার নির্দেশ
‘প্রশস্ত’ পোর্টালে ৭ অক্টোবর থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ। শিক্ষক-কর্মীদের অংশগ্রহণে স্কুল চলাকালীন পঠনপাঠন ব্যাহত না করার নির্দেশ।
স্কুল চলাকালীন ‘প্রশস্ত’ পোর্টালে প্রশিক্ষণ!

নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিমবঙ্গ, এডুকেশন ডেস্ক ৭ : অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে রাজ্যের স্কুলগুলিতে বিশেষ অনলাইন প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ণ আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ‘প্রশস্ত’ পোর্টালের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ মডিউল দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানশিক্ষক থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা, ক্লার্ক, ড্রাইভার, আয়া-সহ বিদ্যালয়ের সমস্ত কর্মী এবং শিক্ষাকর্মীদের এই অনলাইন প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ’ বা ‘সেনসিটাইজ়েশন মডিউল অন ইনক্লুসিভ এডুকেশন’ চালু করা হচ্ছে। এই মডিউলের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে হাওড়া জেলার সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফে জেলার সমস্ত সার্কেল প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটরের মাধ্যমে স্কুলগুলিতে জরুরি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর থেকে বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ‘প্রশস্ত’ পোর্টালে লগইন করলে ‘ভিডিয়ো টিউটোরিয়াল’ অপশনের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ মডিউলটি দেখতে পারবেন।
শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্যই নয়, বিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মীদেরও এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রধানশিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও ক্লার্ক, ড্রাইভার, আয়া-সহ অন্যান্য সহায়ক কর্মী এবং শিক্ষাকর্মীদের এই অনলাইন ভিডিয়ো প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কার্যত সমস্ত স্তরের কর্মীকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে এই নির্দেশ ঘিরেই তৈরি হয়েছে বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রশ্ন। কারণ, নির্দেশিকায় একদিকে সমস্ত শিক্ষক ও কর্মীকে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে প্রশিক্ষণের আয়োজন এমন ভাবে করতে হবে যাতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং জরুরি কাজ কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, স্কুল চলাকালীন কী ভাবে একসঙ্গে প্রধানশিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ক্লার্ক, ড্রাইভার, আয়া-সহ সমস্ত কর্মী এই ভিডিয়ো স্ক্রিনিংয়ে অংশ নেবেন? শিক্ষকরা প্রশিক্ষণে যুক্ত থাকলে সেই সময় পড়াশোনা কী ভাবে চালু থাকবে, আবার বিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মীরা একই সময়ে প্রশিক্ষণে যোগ দিলে দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও জরুরি পরিষেবা কী ভাবে সচল থাকবে—তা নিয়েই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে স্কুলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পঠনপাঠন চালানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজ, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব সামলাতে হয়। ফলে একসঙ্গে এতজন কর্মীকে অনলাইন প্রশিক্ষণে যুক্ত করার ক্ষেত্রে স্কুলগুলিকে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নিয়ে বাস্তব সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে।
যদিও নির্দেশিকায় পঠনপাঠন ব্যাহত না করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে, তবুও প্রশিক্ষণের সময়সূচি এবং কর্মীদের পর্যায়ক্রমে অংশগ্রহণের কোনও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী কী ভাবে এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের সমস্ত কর্মীদের সচেতন করার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের বিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার মূল স্রোতে আরও কার্যকর ভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও সহায়ক কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকেই কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে এই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, ৭ অক্টোবর থেকে ‘প্রশস্ত’ পোর্টালের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ভিডিয়ো প্রশিক্ষণ কী ভাবে স্কুলগুলিতে বাস্তবায়িত হয় এবং একই সঙ্গে পঠনপাঠন ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য জরুরি কাজ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় কি না।
