RBI Repo Rate Hike: বাড়তে পারে হোম ও কার লোনের EMI
রেপো রেট ৫.৫০ শতাংশে বাড়াল RBI। এর ফলে হোম লোন ও কার লোনের EMI বাড়ার সম্ভাবনা, FD-তে সুদ বৃদ্ধির সুযোগ এবং ঋণগ্রহীতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ জেনে নিন।
রেপো রেট বাড়াল RBI, বাড়তে পারে হোম ও কার লোনের EMI

নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ৩ : মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের উপর। বিশেষ করে যাঁদের ফ্লোটিং রেটে হোম লোন বা কার লোন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সুদের হার এবং মাসিক EMI বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যে হারে RBI বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়। এই হার বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির ঋণের খরচ বেড়ে যেতে পারে। সেই বাড়তি খরচের প্রভাব অনেক সময় গ্রাহকদের দেওয়া ঋণের সুদের হারের উপর পড়ে। ফলে নতুন ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি পুরনো ফ্লোটিং-রেটের ঋণও আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
হোম লোনে বাড়তে পারে EMI
রেপো রেট বৃদ্ধির অন্যতম বড় প্রভাব পড়তে পারে গৃহঋণে। বিশেষ করে ফ্লোটিং সুদের হারে যাঁরা হোম লোন নিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক সুদের হার পুনর্নির্ধারণ করলে মাসিক কিস্তি বাড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে EMI একই রেখে ঋণের মেয়াদও বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।
ফলে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন এমন গ্রাহকদেরও আগের তুলনায় বেশি সুদ দিতে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি হোম লোনের ক্ষেত্রে সামান্য সুদ বৃদ্ধি হলেও মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
কার লোনেও বাড়তে পারে খরচ
শুধু গৃহঋণ নয়, গাড়ি কেনার জন্য নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রেও বাড়তি সুদের প্রভাব পড়তে পারে। কার লোনের সুদের হার বাড়লে মাসিক EMI কিছুটা বাড়ার পাশাপাশি গাড়িটির মোট ঋণ পরিশোধের খরচও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে গাড়ির ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সুদের হারের পরিবর্তন মোট খরচে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
FD-তে বাড়তে পারে সুদের সুবিধা
ঋণের ক্ষেত্রে রেপো রেট বৃদ্ধি চাপ তৈরি করলেও আমানতকারীদের জন্য এর কিছুটা ইতিবাচক দিক রয়েছে। ব্যাঙ্কগুলি যদি আমানতের সুদের হার বাড়ায়, তাহলে ফিক্সড ডিপোজিট বা FD-তে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি সুদ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে প্রতিটি ব্যাঙ্কের সুদের হার, ঋণের ধরন এবং গ্রাহকের চুক্তির শর্ত আলাদা হওয়ায় রেপো রেট বৃদ্ধির প্রভাবও সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে একই হবে না।
ঋণগ্রহীতাদের কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, EMI বাড়ার পরিস্থিতিতে ঋণগ্রহীতারা কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে পারেন।
প্রথমত, EMI না বাড়িয়ে ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ ব্যাঙ্কের কাছে জানতে পারেন। এতে মাসিক কিস্তির চাপ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে, যদিও দীর্ঘ মেয়াদে মোট সুদের পরিমাণ বাড়তে পারে।
দ্বিতীয়ত, আংশিক ঋণ পরিশোধ করা যেতে পারে। হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকলে ঋণের একটি অংশ আগাম পরিশোধ করলে মূলধন কমবে এবং ভবিষ্যতের সুদের বোঝাও কিছুটা কমতে পারে।
তৃতীয়ত, ব্যালান্স ট্রান্সফারের বিকল্প খতিয়ে দেখা যেতে পারে। অন্য কোনও ব্যাঙ্ক তুলনামূলক কম সুদের হারে ঋণ নেওয়ার সুযোগ দিলে, সমস্ত চার্জ ও শর্ত যাচাই করে ঋণ স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে শুধু সুদের হার দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রসেসিং ফি, প্রি-পেমেন্ট চার্জ, অন্যান্য পরিষেবা খরচ এবং নতুন ঋণের শর্ত মিলিয়ে মোট খরচ তুলনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা
রেপো রেট বৃদ্ধির ফলে একদিকে ঋণগ্রহীতাদের উপর EMI ও সুদের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে সঞ্চয়কারীরা আমানতের সুদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারেন। তাই যাঁদের ইতিমধ্যেই হোম বা কার লোন রয়েছে, তাঁদের নিজেদের ঋণের সুদের ধরন ও ব্যাঙ্কের নতুন সুদের হার সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে নতুন করে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বর্তমান সুদের হার, EMI এবং দীর্ঘমেয়াদে মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ হিসাব করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। RBI-এর এই সিদ্ধান্তে তাই দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিকল্পনাতেও নতুন করে হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
