রোহিণীর কার্গিল ধারায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ২০০ ফুট খাদে গাড়ি পড়ে মৃত ১, আহত ৫
রোহিণী রোডের কার্গিল ধারা এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রায় ২০০ ফুট খাদে গাড়ি পড়ে মৃত্যু এক যুবকের, আহত পাঁচ। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোহিণীর কার্গিল ধারায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ২০০ ফুট খাদে গাড়ি, মৃত ১

শিলিগুড়ি/কার্শিয়াং, স্টেট ডেস্ক ৪: কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এক যুবকের। রবিবার রাতে রোহিণী রোডের কার্গিল ধারা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গাড়িতে থাকা আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানা গিয়েছে, রবিবার ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গাড়িটিতে শিলিগুড়ির ছয় বন্ধু ছিলেন। তাঁরা কার্শিয়াংয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন। রাতের দিকে সেখান থেকে গাড়িতে করে শিলিগুড়ির উদ্দেশে ফেরার সময় রোহিণীর কার্গিল ধারা এলাকায় আচমকাই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। পাহাড়ি রাস্তার পাশাপাশি অন্ধকার ও বৃষ্টির কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। এরপর গাড়িটি রাস্তার পাশ থেকে ছিটকে প্রায় ২০০ ফুট নিচে গভীর খাদে পড়ে যায়।
খাদে পড়ে গাড়ি, শুরু হয় উদ্ধারকাজ
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে এবং গাড়িটি খাদে পড়ে যেতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে। এরপর স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং দমকলকর্মীরা একসঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
অন্ধকার এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। বেশ কিছুটা নিচে খাদে গাড়িটি পড়ে যাওয়ায় আহতদের কাছে পৌঁছতে সমস্যায় পড়েন উদ্ধারকারীরা। শেষ পর্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে গাড়ির ভিতরে থাকা ছয়জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মৃত অভিষেক সাহা
দুর্ঘটনায় অভিষেক সাহা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনি শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য বাপি সাহার ছেলে। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কার্শিয়াং ঘুরতে গিয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু আনন্দের সেই সফর শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
অভিষেকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিলিগুড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার এবং পরিচিতদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
আহত পাঁচ, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
গাড়িতে থাকা বাকি পাঁচজনও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। উদ্ধার করার পর তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জানা গিয়েছে, আহতদের মধ্যে দু’জনকে কার্শিয়াং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বাকি তিনজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়ির হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বৃষ্টির জেরেই কি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল গাড়ি?
প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রবল বৃষ্টির কথা উঠে আসছে। পাহাড়ি রাস্তায় বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্ধকারে দৃশ্যমানতা কমে যায়। ফলে গাড়ির গতি ও নিয়ন্ত্রণ সামলাতে চালকের সমস্যা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান।
তবে ঠিক কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারাল, চালকের গতি কত ছিল এবং দুর্ঘটনার সময় অন্য কোনও কারণ কাজ করেছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই দুর্ঘটনা ফের পাহাড়ি রাস্তায় রাতে গাড়ি চালানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতা, নিয়ন্ত্রিত গতি এবং খারাপ আবহাওয়ায় নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি ও কুয়াশার মতো পরিস্থিতিতে পাহাড়ি পথে চালকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
