আবাসন সংকটে চাপে সানচেজ, স্পেনে আগাম নির্বাচন ২৯ নভেম্বর
আবাসন সংকট, বাড়তে থাকা ভাড়া ও দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যেই স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের। ভোট ২৯ নভেম্বর।
আবাসন সংকট, গণবিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপে স্পেনে আগাম নির্বাচন ঘোষণা, ভোট ২৯ নভেম্বর

সিটি নিউজ বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক ৩ : আবাসন সংকট, বাড়তে থাকা ভাড়া, দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ এবং সংসদে সরকারের একের পর এক প্রস্তাব আটকে যাওয়ার মধ্যেই বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিল স্পেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা করেছেন। সরকারের উপর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপ এবং সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবের পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
স্পেনের একাধিক বড় শহরে গত কয়েকদিন ধরেই আবাসন সমস্যা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়ার মতো শহরে বাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া, বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং উচ্ছেদের মতো ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন।
আকাশছোঁয়া ভাড়ায় ক্ষোভ, রাস্তায় সাধারণ মানুষ
স্পেনে বর্তমানে আবাসন সংকট সরকারের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। শহরাঞ্চলে বাড়ি ভাড়া নেওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। বহু পরিবার আয়ের বড় অংশ বাড়িভাড়ার পেছনে খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধি এবং ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদের ঘটনাও জনমনে ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ভ্যালেন্সিয়াসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে সরকার যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
একজন ৮৭ বছর বয়সি নারীকে উচ্ছেদের ঘটনা এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রবীণ ওই নারীর উচ্ছেদের ঘটনা সামনে আসার পর আবাসন অধিকার নিয়ে জনমত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সংগঠন সরকারের কাছে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং সাশ্রয়ী আবাসনের দাবি জানায়।
সংসদে সরকারের আবাসন প্রস্তাব খারিজ
আবাসন সংকট মোকাবিলায় স্পেনের সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা এবং স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব সংসদে পেশ করেছিল। কিন্তু গত শুক্রবার সেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসন-সহায়তা প্রস্তাব সংসদে প্রত্যাখ্যাত হয়।
সরকারের প্রস্তাবগুলির বিরোধিতা করে বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি কয়েকটি কাতালান রাজনৈতিক দলও। ফলে সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় বিলগুলি পাস করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনা প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের রাজনৈতিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সংসদে নিজের দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশ করাতে সানচেজ সরকারকে অন্য দলের সমর্থনের উপর নির্ভর করতে হয়।
দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপও বড় কারণ
আবাসন সংকটের পাশাপাশি সানচেজ সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব, জোট ও আঞ্চলিক দলগুলির উপর নির্ভরশীলতা এবং সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ—সব মিলিয়ে সানচেজ সরকারের সামনে পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল।
এই পরিস্থিতিতেই আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনের ভোটাররা নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন। নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ সরকার গঠন এবং আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতি কোন পথে যাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নজরে ২৯ নভেম্বরের নির্বাচন
আগাম নির্বাচনের ঘোষণার পর এখন স্পেনের রাজনৈতিক দলগুলির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা। আবাসন, বাড়িভাড়া, কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতা—এই বিষয়গুলিই আসন্ন নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে আবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে যে গণবিক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলে কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের দল কি আবারও সরকার গঠনের সুযোগ পাবে, নাকি বিরোধীদের পক্ষে জনসমর্থনের পাল্লা ভারী হবে—২৯ নভেম্বরের ভোটেই তার উত্তর মিলবে।
