২০ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ, অভিষেকের মামলায় বড় পদক্ষেপ
২০ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের শুনানিতে দলত্যাগ-বিরোধী মামলায় বড় পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের।
২০ বিদ্রোহী সাংসদকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ, অভিষেকের মামলায় বড় পদক্ষেপ!
সিটি নিউজ বাংলা, নয়াদিল্লি/কলকাতা, ন্যাশনাল ডেস্ক ৯ : তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার পৌঁছে গেল দেশের শীর্ষ আদালতে। লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দলত্যাগ-বিরোধী আইনের মামলায় দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভায় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মঙ্গলবার সেই মামলায় বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নোটিশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মামলাটি শুনছে। তবে গুরুত্বপূর্ণভাবে, আদালত এই পর্যায়ে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার দফতর বা লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে আলাদা করে নোটিশ দেয়নি। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পিকারের পক্ষে উপস্থিত হয়ে আদালতকে জানান, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

২০ বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ খারিজের দাবি
তৃণমূলের অভিযোগ, দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী অযোগ্য ঘোষণার আবেদন করা হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের মূল বক্তব্য ছিল, লোকসভা স্পিকারের কাছে এই সংক্রান্ত আবেদন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই স্পিকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
স্পিকারকে ঘিরে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, স্পিকার ইতিমধ্যেই ওই ২০ সাংসদকে নোটিশ পাঠিয়েছেন। তবে বেঞ্চের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, শুধু নোটিশ পাঠানোই বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান নয়—দলত্যাগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করা হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
ফলে এই মামলায় এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট ২০ সাংসদের জবাব এবং এরপর স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, তার দিকে। এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সদস্যপদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার সম্ভাবনা
২০ জন সাংসদের দলবদলকে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত ইতিমধ্যেই তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদরা পরবর্তীতে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইন প্রযোজ্য। অন্যদিকে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানকে বৈধ বলে দাবি করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সাংবিধানিক ব্যাখ্যার প্রশ্নও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলত্যাগ, সদস্যপদ এবং স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়সীমা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একই মামলায় সামনে এসেছে।
