মমতা-তৃণমূল পেল ফুটবল খেলোয়াড়, ঋতব্রত শিবিরের প্রতীক খাম
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক দিল নির্বাচন কমিশন। মমতা শিবির পেল ফুটবল খেলোয়াড়, ঋতব্রত শিবির পেল খাম।
জোড়াফুল নয়, নতুন নাম-প্রতীকে লড়াই! মমতা-তৃণমূল পেল ‘ফুটবল খেলোয়াড়’, ঋতব্রত-তৃণমূলের প্রতীক ‘খাম’
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে দুই তৃণমূল শিবিরের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৈরি জটিলতায় বড় সিদ্ধান্ত জানাল নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির—দুই পক্ষকেই পৃথক নাম ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে নির্বাচনে লড়বে। এই শিবিরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক।

অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম চূড়ান্ত করেছে কমিশন। এই শিবিরের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে ‘খাম’।
জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে আপাতত নিষেধাজ্ঞা
এর আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে দুই শিবিরের কোনও পক্ষই আসন্ন উপনির্বাচনে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
এই পরিস্থিতিতে কমিশন দুই শিবিরকে বিকল্প নাম ও ‘ফ্রি সিম্বল’-এর তালিকা জমা দিতে বলেছিল। সেই তালিকা পর্যালোচনা করেই শুক্রবার চূড়ান্ত নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে।
মমতা-শিবিরের নতুন পরিচয় কী?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির কমিশনের কাছে একাধিক বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রস্তাবিত নামগুলির মধ্যে ‘মমতা’ শব্দটি রাখা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত কমিশন ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি অনুমোদন করেছে। দলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ফুটবল খেলোয়াড়ের প্রতীক।
অন্যদিকে, মমতা-শিবিরের পক্ষ থেকে খেলা-সংক্রান্ত প্রতীক চাওয়ার খবর আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই তালিকায় ফুটবল খেলোয়াড় ও ক্রিকেট ব্যাটের মতো প্রতীক ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ঋতব্রত-শিবির পেল ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও কমিশনের কাছে বিকল্প নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিয়েছিল। তাদের প্রস্তাবিত নামগুলির মধ্যে ছিল ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’। প্রতীকের ক্ষেত্রে খাম, টর্চ/মশাল এবং ব্ল্যাকবোর্ডের মতো বিকল্প দেওয়া হয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শেষ পর্যন্ত কমিশন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি বেছে নিয়েছে এবং প্রতীক হিসেবে ‘খাম’ বরাদ্দ করেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবিরকে সম্পূর্ণ পৃথক নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে হবে। অর্থাৎ, এতদিন যে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং জোড়াফুল প্রতীকের সঙ্গে ভোটাররা পরিচিত ছিলেন, সেই নাম ও প্রতীক এই দুই উপনির্বাচনে কোনও শিবিরই ব্যবহার করতে পারবে না।
নন্দীগ্রামে মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতব্রত-শিবিরের প্রার্থী মোহাম্মদ এহতেশামুল হক—দুই পক্ষই এবার নিজেদের সংশ্লিষ্ট নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন।
৬ অক্টোবর ভোট
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে ৬ অক্টোবর ২০২৬। তৃণমূলের দুই শিবিরের নাম ও প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান হওয়ায় এবার নির্বাচনী প্রচারে নতুন পরিচয় সামনে আনতে হবে দুই পক্ষকেই।
তবে নির্বাচন কমিশনের এই বরাদ্দ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য। দুই শিবিরের মধ্যে মূল দলীয় নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে কমিশনের বৃহত্তর প্রক্রিয়া এখনও আলাদা বিষয়।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটে তাই এবার একই রাজনৈতিক শিবিরের দাবিদার দুই পক্ষকে দেখা যাবে সম্পূর্ণ আলাদা নাম ও প্রতীকে—‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ফুটবল খেলোয়াড়, বনাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ ও খাম।
সূত্র: নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন
