SEO শিরোনাম: ইয়াসিন মালিক-সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলায় চার্জ গঠনের নির্দেশ
হাওয়ালা মারফত পাকিস্তানি অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ইয়াসিন মালিক-সহ ৭ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে PMLA মামলায় চার্জ গঠনের নির্দেশ দিল পাটিয়ালা হাউস আদালত। পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর।
ইয়াসিন মালিক-সহ ৭ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলায় চার্জ গঠনের নির্দেশ আদালতের
সিটি নিউজ বাংলা | নয়াদিল্লি, ন্যাশনাল ডেস্ক ৪: জম্মু-কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে অর্থ জোগানের অভিযোগে বড় আইনি পদক্ষেপ নিল দিল্লির পাটিয়ালা হাউস আদালত। জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (JKLF) প্রধান ইয়াসিন মালিক-সহ মোট সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং মামলায় চার্জ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ NIA আদালত। পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ জম্মু-কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই মামলা।

গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ NIA বিচারক প্রশান্ত শর্মার দেওয়া আদেশে বলা হয়েছে, মামলার নথিতে সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এমন প্রাথমিক উপাদান রয়েছে, যা তাঁদের বিরুদ্ধে ‘প্রাথমিকভাবে জোরালো সন্দেহ’ তৈরি করে। সেই ভিত্তিতে Prevention of Money Laundering Act (PMLA)-এর ৩ নম্বর ধারায় অপরাধ এবং ৪ নম্বর ধারায় শাস্তি সংক্রান্ত অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই আদেশ প্রকাশ্যে আসে ১ অক্টোবর।
কারা রয়েছেন সাত অভিযুক্তের তালিকায়?
ইয়াসিন মালিক ছাড়াও এই মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন জহুর আহমেদ শাহ ওয়াতালি, আবদুল রশিদ শেখ, শবীর আহমেদ শাহ, নাভাল কিশোর কাপুর, মসরত আলম ভাট এবং Trison Farms and Constructions Pvt Ltd। অর্থাৎ, ছয় ব্যক্তি ও একটি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কী অভিযোগ এনেছে ইডি?
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর অভিযোগ, পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হাওয়ালা চ্যানেল এবং অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে ভারতে অর্থ আনা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সেই অর্থ জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নাশকতামূলক কার্যকলাপে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলায় অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৯৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৩৯ টাকা। বিভিন্ন মাধ্যমে ওই অর্থ গ্রহণ, স্থানান্তর, গোপন এবং ব্যবহারের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছে ইডি। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হতে হবে।
২০১৭ সালের NIA মামলার সূত্র ধরেই তদন্ত
এই অর্থ পাচার মামলার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। সে বছর জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে অর্থ জোগানের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA। ওই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ওই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেনের উৎস ও গতিপথ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ইডি। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই বর্তমান PMLA মামলা এগিয়েছে।
হাফিজ সইদ ও সৈয়দ সালাউদ্দিনের নাম কেন আলোচনায়?
এই প্রসঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বর্তমান অর্থ পাচার মামলায় সাত অভিযুক্তের তালিকায় হাফিজ সইদ ও সৈয়দ সালাউদ্দিনের নাম নেই। তবে ২০১৭ সালের NIA-র সন্ত্রাসে অর্থায়ন সংক্রান্ত মামলায় তাঁদের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছিল। ২০২২ সালে ওই মামলায় ইয়াসিন মালিক-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে UAPA-র বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল বিশেষ আদালত।
অতএব, ২০১৭ সালের সন্ত্রাসে অর্থায়ন মামলা এবং বর্তমান অর্থ পাচার মামলার অভিযুক্তদের তালিকা এক নয়।
নিরাপত্তার কারণে আদালতে হাজির করা যায়নি অভিযুক্তদের
৩০ সেপ্টেম্বর সাত অভিযুক্তকে আদালতে শারীরিকভাবে হাজির করে অভিযোগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁদের আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়নি। এরপর আদালত নির্দেশ দেয়, অভিযুক্তরা যে যে জেলে বন্দি রয়েছেন, সেখানে গিয়ে অভিযোগ সংক্রান্ত নথিতে তাঁদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হবে।
মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৩০ অক্টোবর ২০২৬।
২০২২ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল ইয়াসিন মালিকের
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের সন্ত্রাসে অর্থায়ন মামলায় ২০২২ সালে দোষ স্বীকার করার পর ইয়াসিন মালিককে একাধিক ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। ওই মামলায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমান PMLA মামলা মূলত অর্থের উৎস, লেনদেন এবং কথিত অপরাধলব্ধ অর্থের ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে।
চার্জ গঠন মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়
আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশকে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। এই পর্যায়ে আদালত বিচার শুরু করার মতো প্রাথমিক উপাদান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করে। পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
৩০ অক্টোবরের পরবর্তী শুনানিতে মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।
