কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হামলা, নিহত অন্তত ১৬ | ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে কাঁপল ইউক্রেনের রাজধানী
কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত অন্তত ১৬, আহত ৪০-এর বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন, স্কুল ও শিশু হাসপাতাল।
কিয়েভে ভয়াবহ রুশ ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১৬
কিয়েভ, সিটি নিউজ বাংলা, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ফের ভয়াবহ আকাশ হামলা চালাল রাশিয়া। স্থানীয় সময় ২০ আগস্ট ভোরে কিয়েভ ও সংলগ্ন এলাকায় একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪০ জনেরও বেশি। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন, স্কুল, শিশু হাসপাতাল-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাতভর চলা হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। হামলার তীব্রতায় রাজধানীর একাধিক এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ড্রোনের পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, রাশিয়া এই হামলায় বিপুল সংখ্যক ড্রোনের পাশাপাশি ব্যালিস্টিক, ক্রুজ এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হামলার জেরে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে কিয়েভের সলোমিয়ানস্কি জেলা। সেখানে একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনের ওপরের অংশে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। ভবনের একাধিক অংশ ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালান জরুরি পরিষেবার কর্মীরা।
এছাড়াও স্ভিয়াতোশিনস্কি ও ডারনিটস্কি জেলাতেও হামলার প্রভাব পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন, গুদাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পরিকাঠামো। একটি শিশু হাসপাতালও হামলার কবলে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রায় ৯০ হাজার বাড়ি
হামলার জেরে কিয়েভের বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও বড়সড় বিপর্যয় দেখা দেয়। প্রায় ৯০ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সংস্থা। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ব্যাহত হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জনজীবন। বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তার কারণে বহু বাসিন্দা রাতভর মেট্রো স্টেশন এবং অন্যান্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলে অবস্থান করেন।
কিয়েভে শোকদিবস ঘোষণা
হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো ২১ আগস্ট শহরে শোকদিবস ঘোষণা করেছেন। ওই দিন সরকারি ও পৌর ভবনগুলিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহরজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বেসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা নিয়ে উদ্বেগ
আবাসিক এলাকা, স্কুল এবং শিশু হাসপাতালের মতো বেসামরিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পশ্চিমা দেশগুলির কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আরও ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত পরিকাঠামো। এর মধ্যে ড্রোন যন্ত্রাংশ উৎপাদন কেন্দ্র, সামরিক ডিপো এবং লজিস্টিকস হাবও ছিল বলে জানিয়েছে মস্কো।
সব মিলিয়ে ২০ আগস্টের এই হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কিয়েভের ওপর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ আকাশ হামলা হিসেবে সামনে এসেছে। প্রাণহানি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিপর্যয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় আঘাতের ঘটনায় হামলার পরও কিয়েভজুড়ে আতঙ্ক ও শোকের আবহ অব্যাহত রয়েছে।
