যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতিতে নতুন নিয়ম, নির্দিষ্ট জায়গায় মতপ্রকাশের নির্দেশ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যত্রতত্র দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশিকা। নির্দিষ্ট জায়গায় মতপ্রকাশের সুযোগ, ভবন ও গেটে লেখালেখিতে কড়াকড়ি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যত্রতত্র দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতিতে লাগাম, নির্দিষ্ট জায়গায় মতপ্রকাশের নির্দেশ প্রশাসনের
কলকাতা, স্টেট ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যত্রতত্র দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশিকা জারি করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের তরফে পড়ুয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে মতামত প্রকাশের অধিকার বজায় থাকলেও দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতির জন্য নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহার করতে হবে।
নির্দিষ্ট জায়গাতেই দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে ছাত্র সংগঠন, পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে নানা স্লোগান, বক্তব্য ও শিল্পকর্ম দেখা গিয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, যত্রতত্র দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতির ফলে বিভিন্ন ভবন, গেট ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সৌন্দর্য এবং পরিচ্ছন্নতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই কারণেই মতপ্রকাশের অধিকার এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন এই নির্দেশিকা।
প্রশাসনের আবেদন, পড়ুয়া এবং অন্যান্য সদস্যরা নিজেদের রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক বক্তব্য প্রকাশ করতে পারবেন, তবে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত জায়গাগুলি ব্যবহার করতে হবে।
ভবন, গেট ও অন্যান্য স্থানে ইচ্ছেমতো লেখালেখিতে নিষেধ
নির্দেশিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন, দেওয়াল, গেট এবং জনসমক্ষে থাকা অন্যান্য স্থানে ইচ্ছেমতো লেখা বা ছবি আঁকা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত স্থান ছাড়া ক্যাম্পাসের অন্যত্র দেওয়াল লিখন বা গ্রাফিতি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ক্যাম্পাসের পরিকাঠামো এবং ঐতিহ্য রক্ষা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যেরও দায়িত্ব। সেই কারণেই এই বিষয়ে সকলের সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উসকানিমূলক ও বিতর্কিত বক্তব্য নিয়েও সতর্ক প্রশাসন
শুধু কোথায় দেওয়াল লিখন করা যাবে, তা নয়—কী ধরনের বক্তব্য বা স্লোগান লেখা হচ্ছে, সেই বিষয়েও সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এমন কোনও বক্তব্য, স্লোগান বা গ্রাফিতি প্রকাশ না করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে, যা আক্রমণাত্মক, উসকানিমূলক বা অত্যন্ত বিতর্কিত হয়ে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে।
জাতীয় সংহতি, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হতে পারে—এমন কোনও বক্তব্য থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক বা সামাজিক বার্তা দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রকাশের ক্ষেত্রেও আরও সতর্ক থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
মতপ্রকাশের বিকল্প হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের পরামর্শ
দেওয়াল লিখনের বিকল্প মাধ্যম হিসেবেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক মতামত, সামাজিক বার্তা, প্রতিবাদ, দাবি বা বিভিন্ন বিষয়ে নিজের বক্তব্য প্রকাশের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে আরও বেশি করে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশিকাকে ঘিরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কারণ, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন ও মুক্ত মতপ্রকাশের ইতিহাসের সঙ্গে দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
একদিকে ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য এবং পরিকাঠামো রক্ষার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে মুক্ত মতপ্রকাশের ঐতিহ্য—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, নির্দিষ্ট জায়গায় দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতির সুযোগ বজায় রেখে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মতো বিকল্প মাধ্যম ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে মতপ্রকাশের পরিবেশও বজায় রাখা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে যত্রতত্র লেখালেখি ও গ্রাফিতির কারণে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও পরিবেশের ক্ষতি না হয়, সেই লক্ষ্যেই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
