দক্ষিণের জলবণ্টন বিরোধ দ্রুত মেটানোর বার্তা অমিত শাহের
দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘদিনের জলবণ্টন বিরোধ দ্রুত মেটাতে যৌথ বৈঠকের প্রস্তাব দিলেন অমিত শাহ। মামল্লপুরমের দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বার্তা।
দক্ষিণের জলবণ্টন বিরোধ দ্রুত মেটানোর বার্তা অমিত শাহের
মামল্লপুরম, সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক: দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত মেটাতে পারস্পরিক আলোচনার ওপর জোর দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তামিলনাড়ুর মামল্লপুরমে অনুষ্ঠিত ৩১তম দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করে তিনি বলেন, আন্তঃরাজ্য জলবণ্টন নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।
বৈঠকে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে জলসম্পদ বণ্টন, আন্তঃরাজ্য সমন্বয় এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রশাসনিক সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার মধ্যে সম্পত্তি ও দায়বদ্ধতা ভাগাভাগির মতো বিষয়ও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

জলবণ্টন সমস্যা সমাধানে যৌথ বৈঠকের প্রস্তাব
অমীমাংসিত জলবিরোধ দ্রুত মেটাতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির পাশাপাশি কেন্দ্রের একাধিক দফতরকে নিয়ে যৌথ বৈঠকের প্রস্তাব দেন অমিত শাহ। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং আন্তঃরাজ্য পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
কেন্দ্রের লক্ষ্য, দীর্ঘদিন ধরে আদালত বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে থাকা সমস্যাগুলি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে নদীর জল ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
‘নিজের স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ, তবে অন্য রাজ্য বঞ্চিত হলে সমাধান নয়’
বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, প্রতিটি রাজ্যের নিজের স্বার্থ রক্ষা করা স্বাভাবিক। তবে সেই স্বার্থের কারণে যদি অন্য কোনও রাজ্য বছরের পর বছর জল থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার মাধ্যমেই আন্তঃরাজ্য জলবিরোধের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব। জলসম্পদকে কেন্দ্র করে রাজ্যগুলির মধ্যে সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বয়ের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।
নদী সংযোগ প্রকল্পে জোর
দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠকে দেশের জলসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্ব দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ব্রহ্মপুত্র, গোদাবরী ও কাবেরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলিকে সংযোগ করার পরিকল্পনার ওপর জোর দেন তিনি।
অমিত শাহের বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জলসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে নদী সংযোগ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে জলসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জলপথে পরিবহণের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশ-তেলেঙ্গানা সমস্যার দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ
অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সম্পত্তি ও দায়বদ্ধতা ভাগাভাগির বিষয়ও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। দুই রাজ্যের মধ্যে এখনও যেসব বিষয় নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরামর্শে দ্রুত মিটিয়ে ফেলার বিষয়ে আলোচনা হয়।
কেন্দ্রের তরফে দুই রাজ্যকে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বাকি সমস্যাগুলি সমাধানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা দীর্ঘায়িত না করে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়গুলি নিষ্পত্তির ওপর জোর দেওয়া হয়।
দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয়ের বার্তা
জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে যৌথ বৈঠকের প্রস্তাবে সংশ্লিষ্ট দক্ষিণের রাজ্যগুলি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে গঠনমূলক সমাধানে পৌঁছনোর ব্যাপারে রাজ্যগুলির পক্ষ থেকেও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
ফলে আগামী দিনে জলসম্পদ সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে আরও ধারাবাহিক বৈঠক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত দক্ষিণের শীর্ষ নেতৃত্ব
মামল্লপুরমের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শীর্ষ প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরলের নেতৃত্ব-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি অংশ নেন।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে দীর্ঘদিনের জলবণ্টন বিরোধ মেটাতে কেন্দ্র যে আলোচনাভিত্তিক সমাধানের পথ বেছে নিতে চাইছে, মামল্লপুরমের বৈঠকে অমিত শাহের বক্তব্যে তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এখন নজর থাকবে, যৌথ বৈঠক ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবে কতগুলি অমীমাংসিত জলবিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।
