NEET-UG আন্দোলনে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগ, ৫ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গড়ল সুপ্রিম কোর্ট
NEET-UG আন্দোলনে পুলিশি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করল সুপ্রিম কোর্ট। ১০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি।
NEET-UG আন্দোলনে পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ, ৫ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন সুপ্রিম কোর্টের
নয়াদিল্লি, সিটি নিউজ বাংলা, ন্যাশনাল ডেস্ক : NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র ও যুব আন্দোলনের সময় পুলিশি বলপ্রয়োগ এবং সংঘর্ষের অভিযোগ নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। আন্দোলন চলাকালীন পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে ওঠা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে ৫ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি (HPEC) গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
২০ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতের এই পদক্ষেপকে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কারা রয়েছেন তদন্ত কমিটিতে?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিতে বিচার বিভাগ, তদন্তকারী সংস্থা এবং পুলিশ প্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে।
কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) আর সুভাষ রেড্ডিকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি রবি শঙ্কর ঝা, দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিচারপতি শালিন্দর কৌর, সিবিআইয়ের প্রাক্তন ডিরেক্টর ঋষি কুমার শুক্লা এবং মেঘালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডিজিপি ড. এল আর বিষ্ণোই।
বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের ফলে তদন্তে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় থাকবে বলে মনে করছে আদালত।
কী কী বিষয় খতিয়ে দেখবে কমিটি?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্তের আওতায় থাকবে।

লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসের ব্যবহার এবং পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগও খতিয়ে দেখবে কমিটি। কোথায় কতটা বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেই বলপ্রয়োগ প্রয়োজনীয় ছিল কি না এবং কোথাও আইন ও নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার চেষ্টা হবে।
মহিলা আন্দোলনকারীদের অভিযোগেও বিশেষ নজর
আন্দোলনে অংশ নেওয়া মহিলা প্রতিবাদীদের নিরাপত্তা ও তাঁদের সঙ্গে আচরণের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও মহিলা আন্দোলনকারীকে লক্ষ্য করে হেনস্থা, শারীরিক নির্যাতন বা শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়েও সুপারিশ করা হতে পারে।
আন্দোলনকারীদের ভূমিকারও তদন্ত
শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগই নয়, আন্দোলনের সময় প্রতিবাদকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা সহিংসতার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া, তাঁদের আহত করা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার মতো অভিযোগের সত্যতাও যাচাই করা হবে।
অর্থাৎ, আন্দোলনের সময় সংঘটিত সংঘর্ষের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করার দায়িত্ব থাকবে এই কমিটির উপর।
আহতদের ক্ষতিপূরণ ও FIR নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
সংঘর্ষে আহত আন্দোলনকারী এবং নিরাপত্তাকর্মী—দুই পক্ষের ক্ষেত্রেই অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের বিষয়ে সুপারিশ করতে পারে কমিটি।
পাশাপাশি নির্দোষ ছাত্রছাত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের বিষয়টিও আদালতের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। কোনও পড়ুয়া অন্যায়ভাবে মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের সময় গুরুত্ব পাবে।
CCTV ও ড্রোন ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ
তদন্তকে নির্ভুল করতে আন্দোলনের সময়কার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংরক্ষণের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আন্দোলনের সময়কার CCTV, ড্রোন ফুটেজ এবং বডি-ক্যামেরার ভিডিও সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ফুটেজগুলির পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, পুলিশের নথি, ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হবে।
১০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, এই তদন্ত কোনও এককালীন প্রক্রিয়া নয়। কমিটি ধারাবাহিকভাবে ঘটনাগুলি মূল্যায়ন করবে এবং আদালতের কাছে রিপোর্ট পেশ করবে। দ্রুত প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ধার্য করা হয়েছে। ফলে সেই শুনানিতে তদন্ত কমিটির প্রাথমিক অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ছাত্র-যুব আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রতিবাদকারীদের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ সেই বিতর্কের নিরপেক্ষ তদন্তের পথ আরও স্পষ্ট করল।
