শিখা ইন অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া দমকল, আরও ১৭ হোটেলকে শোকজ
ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর কলকাতায় অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ। আরও ১৭টি হোটেলকে শোকজ করল দমকল বিভাগ।
শিখা ইন-এর অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া দমকল, আরও ১৭ হোটেলকে শোকজ
কলকাতা: নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর শহরের হোটেলগুলির অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ শুরু করল দমকল বিভাগ। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় গাফিলতির অভিযোগে নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকার আরও ১৭টি হোটেলকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অগ্নিসুরক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দমকল সূত্রে খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলির বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফলে শিখা ইন-এর ঘটনার পর কলকাতার হোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্তরাঁগুলির অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি যে আরও কঠোর হচ্ছে, তা কার্যত স্পষ্ট।
শিখা ইন-এর ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু
মঙ্গলবার গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
ঘটনার পর থেকেই অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং হোটেলের অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঘটনার তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হোটেলের মালিক এখনও পলাতক বলে জানা গিয়েছে।
জরুরি বহির্গমন পথ বন্ধ থাকার অভিযোগ
অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। শুধু তাই নয়, হোটেলের পিছনের দিকে থাকা জরুরি বহির্গমন পথ পাঁচিল তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে জানা গিয়েছে।
আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। জরুরি বেরোনোর পথ কার্যকর না থাকায় হোটেলের ভিতরে থাকা অনেকেই দ্রুত নিরাপদ জায়গায় পৌঁছতে পারেননি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিই প্রাণহানির অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
বৃহস্পতিবারও একাধিক প্রতিষ্ঠানকে শোকজ
শিখা ইন-এর ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসের অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে পুরসভা ও দমকল বিভাগ। ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি গেস্ট হাউস এবং ৪টি রেস্তরাঁকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। কোথায় কী ধরনের অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো রয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার পর্যাপ্ত পথ রয়েছে কি না এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স বৈধ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়।
এবার নজরে আরও ১৭টি হোটেল
শুক্রবার সেই তালিকায় নতুন করে আরও ১৭টি হোটেলকে যুক্ত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, নতুন করে শোকজ হওয়া হোটেলগুলির মধ্যে—
- মার্কুইজ স্ট্রিটের ১০টি হোটেল
- মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৫টি হোটেল
- এসএন ব্যানার্জি রোডের ১টি হোটেল
- তপসিয়া রোডের ১টি হোটেল
রয়েছে।
দমকলের নোটিসে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, খতিয়ে দেখছে দমকল
শুধু অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রয়েছে কি না, সেটিই নয়—সেগুলি বাস্তবে কার্যকর কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে হোটেলের অতিথিরা নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারবেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দমকল বিভাগের তরফে সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলিকে নিজেদের অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে বলা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙা হয়ে থাকলে বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাটতি ধরা পড়লে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করতে পারে।
২৪ ঘণ্টার জবাবেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত
শোকজ নোটিস পাওয়া হোটেলগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে হবে। সেই জবাব পর্যালোচনা করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে দমকল বিভাগ। উত্তর সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে জরিমানা থেকে শুরু করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
শিখা ইন-এর মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার হোটেল ও রেস্তরাঁগুলিতে অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে যে নতুন করে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে, একের পর এক শোকজ নোটিস সেই বার্তাই দিচ্ছে। শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও পর্যটন এলাকাগুলিতে থাকা হোটেলগুলিতে অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।
