যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, থানায় উপাচার্য; FIR দায়ের
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের থানায় অভিযোগ। হস্টেলে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু পুলিশের।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে থানায় উপাচার্য, এফআইআর দায়ের
কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অশান্তি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার আইনি পদক্ষেপ। ২১ আগস্ট ২০২৬ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ এবং একাধিক জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার জেরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের দিকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, একদল বহিরাগত জোর করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে। এরপর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়।

রাতের অন্ধকারে ক্যাম্পাসে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ
উপাচার্যের দায়ের করা অভিযোগে মূলত রাতের বেলা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং ভাঙচুরের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বহিরাগতদের একটি দল ক্যাম্পাসে ঢুকে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে।
অভিযোগ, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পড়ুয়া, শিক্ষক ও কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও দাবি উঠেছে।
প্রধান গেটে ভাঙচুর, আগুন লাগানোর চেষ্টার অভিযোগ
অভিযোগপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট ক্ষতিগ্রস্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে এই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের হামলা চালানো হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রতীক নষ্ট করার অভিযোগ
অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক লোগো বা প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতীক নষ্ট করার অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কোনও ধরনের প্রতিবাদ বা আন্দোলনের নামে ঐতিহাসিক সম্পত্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক নষ্ট করা গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
হস্টেলে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগ, পড়ুয়াদের হুমকি
অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল হস্টেলে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার সময় কয়েকজন হস্টেলে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং সেখানে থাকা ছাত্রছাত্রীদের হুমকি দেওয়া হয়।
হস্টেল চত্বরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পড়ুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে এই অভিযোগকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক অশান্তি, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগের পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বহিরাগতদের কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ মিলল এবং রাতের সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উপাচার্যের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ক্যাম্পাসে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে।
ঘটনার তদন্তে পুলিশের নজর কারা জড়িত, সেদিকে
এখন পুলিশের তদন্তে মূল নজর থাকবে কারা ওই রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল, কীভাবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকল এবং ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা সরাসরি যুক্ত ছিল—সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার দিকে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগোনোর পাশাপাশি ঘটনার পেছনে কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অশান্তি, ভাঙচুর এবং পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপাচার্যের থানায় অভিযোগ দায়েরের পর এবার পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কী ঘটেছিল এবং এই ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল।
