তেলেঙ্গানার ফার্মা ইউনিটে রিঅ্যাক্টর বিস্ফোরণ, মৃত ২ শ্রমিক, আহত ৯
তেলেঙ্গানার ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরির ফার্মা ইউনিটে রাসায়নিক রিঅ্যাক্টর বিস্ফোরণে ২ শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ৯। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল, শুরু তদন্ত।
তেলেঙ্গানার ফার্মা ইউনিটে ভয়াবহ রিঅ্যাক্টর বিস্ফোরণ
তেলেঙ্গানা: তেলেঙ্গানার ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলায় একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাসায়নিক রিঅ্যাক্টর বিস্ফোরণের জেরে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
শিফট পরিবর্তনের সময় আচমকা বিস্ফোরণ
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬ গভীর রাতে শ্রমিকদের শিফট পরিবর্তনের সময় আচমকাই কারখানার ভিতরে থাকা একটি রাসায়নিক রিঅ্যাক্টরে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে কারখানা চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলার পোচামপল্লী মণ্ডলের দোতিগুদেম গ্রামের একটি ফার্মা ইউনিটে। বিস্ফোরণের পরপরই কারখানার ভিতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু দুই শ্রমিকের
বিস্ফোরণের জেরে ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে দু’জনের শরীরের ৫০ শতাংশেরও বেশি পুড়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও আরও সাতজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর হলেও প্রত্যেককেই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আহতদের হায়দরাবাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি
বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আহত শ্রমিকদের কারখানা থেকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হায়দরাবাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গুরুতর আহত শ্রমিকদের বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ আগুন
রিঅ্যাক্টর বিস্ফোরণের পর কারখানার ভিতরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী।
দমকল কর্মীদের তৎপরতায় বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন যাতে কারখানার অন্য অংশে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
কীভাবে বিস্ফোরণ, তদন্ত শুরু
ঠিক কী কারণে রাসায়নিক রিঅ্যাক্টরে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমস্যা অথবা অন্য কোনও কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিপজ্জনক রাসায়নিক নিয়ে কাজ করা এই ধরনের শিল্প ইউনিটে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু এবং একাধিক শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের তরফে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
