iPhone EMI-এর চাপ, মহারাষ্ট্রে বাবা-মা ও ১৮ বছরের ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু
মহারাষ্ট্রে iPhone EMI নিয়ে পারিবারিক অশান্তির জেরে মর্মান্তিক ঘটনা। ১৮ বছরের কুণাল, তাঁর বাবা-মায়ের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। জানুন পুরো ঘটনা।
আইফোনের EMI-র চাপে মর্মান্তিক পরিণতি, মহারাষ্ট্রে বাবা-মা ও ১৮ বছরের ছেলের মৃ*ত্যু
মহারাষ্ট্র: আইফোনের কিস্তি বা EMI পরিশোধ নিয়ে পারিবারিক অশান্তি থেকে মর্মান্তিক পরিণতি। মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার তিসগাঁও এলাকায় এক ১৮ বছরের কিশোর এবং তার বাবা-মায়ের মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত*দের নাম কুণাল চাঁদগুদে (১৮), তাঁর বাবা মুরলিধর চাঁদগুদে (৪৮) এবং মা সঙ্গীতা চাঁদগুদে (৪২)।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কুণাল কিস্তিতে একটি আইফোন কিনেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই ফোনের মাসিক EMI পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়েন তিনি। কিস্তির টাকা জোগাড় করার জন্য বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করাকে কেন্দ্র করে পরিবারের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। সেই অশান্তিই শেষ পর্যন্ত ভয়া*বহ ঘটনায় গড়ায় বলে জানা গিয়েছে।
পাহাড়ের কিনারায় গিয়ে আ*ত্মহত্যার হুমকি
পারিবারিক অশান্তির পর কুণাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্থানীয় খাভদা পাহাড়ের কাছে চলে যান। সেখানে পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে তিনি আ*ত্মহত্যার হুমকি দিতে থাকেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছন কুণালের বাবা-মা। পাশাপাশি পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন। কিশোরকে কোনওভাবে বুঝিয়ে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়।
তিন ঘণ্টা ধরে বোঝানোর চেষ্টা
কুণালকে পাহাড়ের কিনারা থেকে সরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
জানা গিয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা কুণালের ফোনের বকেয়া কিস্তির টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও আশ্বাসেই তিনি শান্ত হননি বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা এই উদ্ধার প্রচেষ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে পড়লেন বাবা
দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ কুণালকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার শেষ চেষ্টা করেন তাঁর বাবা মুরলিধর। ছেলেকে ধরে সরিয়ে আনতে তিনি পাহাড়ের কিনারার দিকে এগিয়ে যান।
কিন্তু সেই সময় আচমকাই কুণাল ঝাঁপ দেন বলে জানা গিয়েছে। ছেলেকে ধরে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে মুরলিধারও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর বাবা ও ছেলে দু’জনেই গভীর খাদে পড়ে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সামনে মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে।
স্বামী ও ছেলের পরিণতি দেখে মায়েরও মৃ*ত্যু
ঘটনাটি চোখের সামনে দেখার পর প্রবল শোকে ভেঙে পড়েন কুণালের মা সঙ্গীতা। স্বামী ও সন্তানের এই পরিণতির পর তিনিও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন বলে জানা গিয়েছে।
ফলে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু ঘটে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আর্থিক চাপ ও প্রযুক্তিপণ্যের কিস্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
এই ঘটনায় একটি আইফোনের EMI-কে কেন্দ্র করে কীভাবে পারিবারিক অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশি তদন্তে ঘটনার সমস্ত কারণ ও পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও আর্থিক সমস্যা বা কিস্তির চাপ তৈরি হলে একা সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে কেউ আত্মহত্যার হুমকি দিলে তাঁকে একা না রেখে দ্রুত প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল বা পুলিশের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
মহারাষ্ট্রের এই ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃ*ত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার পরিস্থিতি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য খতিয়ে দেখছে।
