বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, ২৫৫ ভোটে জয়
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৫৫ ভোটে জয়, ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও বঙ্গভবনে শপথ—জানুন বিস্তারিত।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন। প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ২১ আগস্ট ২০২৬ বঙ্গভবনের দরবার হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে রাষ্ট্রপতির শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
২৫৫ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত
এর একদিন আগে, অর্থাৎ ২০ আগস্ট ২০২৬, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত সমর্থিত এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি পান ৮৮ ভোট।
দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই নির্বাচনকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভের পরের দিনই মির্জা ফখরুলের শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয় বঙ্গভবনে। দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
শপথ পাঠের পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব শুরু হয়। দেশের সংবিধান রক্ষা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারি আধিকারিক এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির দীর্ঘদিনের শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়াকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ চরিত্র। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন।
একদিকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ—এই দুই প্রার্থীর লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল।
নতুন দায়িত্বে প্রবীণ রাজনীতিবিদ
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রবেশ করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতিতে থাকার পর এবার দেশের সাংবিধানিক সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পেলেন তিনি।
তাঁর সামনে এখন অন্যতম বড় দায়িত্ব হবে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা করা।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং তার পরেই বিএনপির শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া—দুই ঘটনাই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
