কিডনি চুরির তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য, ধৃত মিডলম্যানেরও নেই কিডনি
কিডনি চুরির অভিযোগের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত মিডলম্যান প্রভাস মণ্ডলেরও একটি কিডনি নেই বলে পুলিশ সূত্রে খবর। উঠে এসেছে লুধিয়ানার শাকিলের নাম।
কিডনি চুরির অভিযোগের তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য, ধৃত মিডলম্যানের নিজেরই নেই একটি কিডনি
সল্টলেক: সুকান্তনগরের বাসিন্দা মঙ্গল মণ্ডলের কিডনি চুরির অভিযোগের তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পেল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মিডলম্যান প্রভাস মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্রের একাধিক তথ্য উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তকারীদের দাবি, সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, ধৃত প্রভাস মণ্ডলের নিজের শরীরেও একটি কিডনি নেই। পুলিশের জেরায় জানা গিয়েছে, অতীতে তিনিও এই ধরনের পাচারচক্রের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পরে মোটা টাকা উপার্জনের আশায় সেই চক্রের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে মিডলম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ।

নিজের কিডনি হারিয়েই কি পাচারচক্রে যোগ?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রভাস মণ্ডলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে তাঁর একটি কিডনি না থাকার বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তকারীদের অনুমান, কিডনি পাচার চক্র সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
অভিযোগ, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই পরবর্তীকালে তিনি চক্রের হয়ে নতুন ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন। কিডনি দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ করতেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীরা এখন জানার চেষ্টা করছেন, প্রভাস শুধুমাত্র স্থানীয় দালাল হিসেবে কাজ করতেন, নাকি কিডনি পাচারের সঙ্গে যুক্ত কোনও বড় নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
তদন্তে উঠে এল ‘শাকিল’-এর নাম
প্রভাস মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ‘শাকিল’ নামে এক যুবকের নাম। পুলিশের দাবি, লুধিয়ানা থেকে বসেই ওই ব্যক্তি কিডনি পাচার চক্র পরিচালনা করত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী মঙ্গল মণ্ডল লুধিয়ানায় পৌঁছনোর পর তাঁকে শাকিলই রিসিভ করেছিল বলে অভিযোগ। ফলে মঙ্গল মণ্ডলকে কীভাবে এই চক্রের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল এবং তাঁর সঙ্গে কী ধরনের প্রতারণা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
লুধিয়ানাকে ঘিরে তদন্ত
প্রভাসের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবার লুধিয়ানার যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং কারা দালাল হিসেবে কাজ করত—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
শাকিলের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে কিডনি পাচার চক্রের কার্যপদ্ধতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
আন্তর্জাতিক যোগের আশঙ্কা
মঙ্গল মণ্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বড় একটি কিডনি পাচার নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা সামনে আসছে। দেশের একাধিক রাজ্যের সঙ্গে এই চক্রের যোগাযোগ ছিল কি না, এমনকী বিদেশের সঙ্গেও কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ ধৃত প্রভাস মণ্ডলের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের তালিকা এবং অন্যান্য নথি পরীক্ষা করছে। এর মাধ্যমে চক্রের আরও সদস্যের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গল মণ্ডলের অভিযোগের সত্যতা, তাঁর কিডনি কীভাবে এবং কোথায় অপসারণ করা হয়েছিল, এই ঘটনায় কোনও চিকিৎসক বা হাসপাতাল জড়িত ছিল কি না—প্রতিটি বিষয়ই তদন্তের আওতায় রয়েছে। ফলে তদন্ত এগোলে কিডনি পাচার চক্রের আরও বড় নেটওয়ার্কের হদিশ মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
