কলকাতায় উচ্ছেদ-অভিযানে কড়া নিয়ম, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার আগে ৬ দফা নির্দেশিকা
কলকাতায় জবরদখল উচ্ছেদ, বেআইনি নির্মাণ ভাঙা বা সিল করার আগে মানতে হবে ৬ দফা নির্দেশিকা। পুরসভার সঙ্গে সমন্বয় ও পুলিশি প্রস্তুতিতে জোর লালবাজারের।
কলকাতায় উচ্ছেদ-অভিযানে কড়া নিয়ম! বেআইনি নির্মাণ ভাঙা বা সিল করার আগে মানতে হবে ৬ দফা নির্দেশিকা
আচমকা অভিযান নয়, পুরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পিত পদক্ষেপের নির্দেশ লালবাজারের।

কলকাতা, স্টেট ডেস্ক ৭ : শহরে জবরদখল উচ্ছেদ, বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা কিংবা কোনও নির্মাণ সিল করার মতো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এবার থেকে আরও সতর্ক হতে হবে কলকাতা পুলিশকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অভিযানের সময় সম্ভাব্য গোলমাল এড়াতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ নতুন করে ৬ দফা নির্দেশিকা জারি করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
লালবাজারের এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কোনও উচ্ছেদ অভিযান বা বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ যেন আচমকা নেওয়া না হয়। অভিযান শুরুর আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
🚫 আচমকা অভিযান নয়
পুলিশ কমিশনারের নির্দেশিকায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আচমকা অভিযান বন্ধ করার উপর। কোনও এলাকায় জবরদখল উচ্ছেদ করতে হলে, বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হলে কিংবা কোনও নির্মাণ সিল করার প্রয়োজন হলে আগে থেকেই গোটা প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা করতে হবে।
হঠাৎ করে পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালানোর পরিবর্তে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা তৈরি করতে হবে। অভিযানের ফলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হতে পারে কি না, স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে—সেই বিষয়গুলিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
👮 আগে থেকেই নির্দিষ্ট করতে হবে পুলিশ বাহিনী
অভিযান শুরুর আগে থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন এলাকায় কত সংখ্যক পুলিশকর্মী প্রয়োজন হতে পারে, কোথায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন—সবকিছু আগে থেকেই চিহ্নিত করতে হবে।
অভিযানের সময় যাতে পুলিশকর্মী বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির মধ্যে না পড়েন, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।
🏢 পুরসভার সঙ্গে সমন্বয় বাধ্যতামূলক
উচ্ছেদ বা বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ সাধারণত পুরসভার সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তাই পুলিশকে এককভাবে অভিযান পরিচালনা না করে পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট পুরসভা আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
লালবাজারের এই নির্দেশের ফলে পুলিশের সঙ্গে পুরসভার মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হবে এবং অভিযানের সময় ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
🛡️ পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব
উচ্ছেদ বা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযানের সময় অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সঙ্গে প্রশাসনের বিরোধ তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সেই অনুযায়ী পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া কোনও অভিযান শুরু না করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
📋 তিন পর্যায়ে চেকলিস্ট মেনে চলার নির্দেশ
নতুন নির্দেশিকায় চেকলিস্ট ব্যবস্থার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযান শুরুর আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে, অভিযান চলাকালীন কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অভিযান শেষ হওয়ার পর কোন কোন বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—তার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা চেকলিস্ট অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
এর ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাতে বাদ না পড়ে এবং প্রতিটি অভিযান একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
📞 জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া আগাম তথ্য ও সমন্বয়
পুরসভার এনফোর্সমেন্ট বা উচ্ছেদ সংক্রান্ত পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও পুলিশের সঙ্গে আগাম যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ জরুরি পরিস্থিতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে পুলিশকে আগে থেকেই অবহিত করতে হবে।
এর উদ্দেশ্য হল, পুরসভা কোনও এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশি নিরাপত্তা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা এবং ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
⚖️ কেন এই নতুন নির্দেশিকা?
কলকাতা শহরের বিভিন্ন এলাকায় জবরদখল, বেআইনি নির্মাণ কিংবা অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালায় প্রশাসন। কিন্তু এই ধরনের অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রশাসনের সংঘাত, বিক্ষোভ কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনা থাকে।
তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযানকে আরও পরিকল্পিত, নিরাপদ এবং সমন্বিত করার লক্ষ্যেই লালবাজারের এই নতুন ৬ দফা নির্দেশিকা বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, এবার থেকে কলকাতায় কোনও বেআইনি নির্মাণ ভাঙা, নির্মাণ সিল করা কিংবা জবরদখল উচ্ছেদের ক্ষেত্রে শুধু আইনি পদক্ষেপই নয়, তার আগে প্রয়োজনীয় পুলিশি প্রস্তুতি, পুরসভার সঙ্গে সমন্বয় এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সিটি নিউজ বাংলা | কলকাতা
